বিশ্বজুড়ে খবর, এক ক্লিকেই

July 21, 2026 9:08 am
July 21, 2026 9:08 am

মোজাফফর হোসেনের বিচার হবে কোর্ট মার্শালে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনের বিচার সেনা আইনে জেনারেল কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

সোমবার দুপুরে রাজধানীর পিলখানায় শহীদ ক্যাপ্টেন আশরাফ হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এর আগে বিজিবি সদরদপ্তর পরিদর্শন করেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার অন্য সহযোগীদের বিচার তখন সামরিক আদালতে হয়েছে। সেখানে কিছু পর্যবেক্ষণ আছে। তিনি দীর্ঘদিন ভিন্ন পরিচয়ে পার্শ্ববর্তী একটি দেশে পলাতক ছিলেন। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করে সেনা আইনে বিচার করার জন্য সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করেছি। জেনারেল কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে তার বিচারটা নিশ্চিত করা হবে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার যারা সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন, একই রায়ে তার বিষয়ে কোনো পর্যবেক্ষণ থাকলে সেটি জেনারেল কোর্ট মার্শাল দেখবে।’

তার বিরুদ্ধে সিভিল আইনে কোন মামলা করা হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সিভিল আইনে তাকে অন্তর্ভুক্ত করাটা কতটা আইনসম্মত হবে, পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা দেখা যাবে। এখন নয়। একই ব্যক্তিকে একই অপরাধে দুই ভিন্ন আইনে দুইবার বিচার করা যায় না।

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ৪৫ বছর ধরে পলাতক মেজর (অব.) মোজাফফরকে (৭৭) ১৫ জুলাই রাতে রাজধানীর বনানীর একটি বাসা থেকে গ্রেপ্তার করার কথা জানায় ডিবি। পরদিন তাকে ঢাকা সেনানিবাসের মিলিটারি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ল্যান্ড মাইন বিস্ফোরণ ও সীমান্তে কাঁটা তারের বেড়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ল্যান্ড মাইন খুজে বের করার জন্য আমরা কিছু যন্ত্রপাতি বিজিবিকে সরবরাহ করেছি। সেগুলো দিয়ে বিজিবি কাজ করছে, যাতে ল্যান্ড মাইন দুর্ঘটনা আর না হয়। আর কাঁটা তারের বেড়া বিষয়টি হল– বিভিন্ন কারণে মায়ানমারের সীমান্তটা আমাদের জন্য এখন খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়েছে। এটার সঙ্গে অন্য দেশের সীমান্তে কাঁটা তারের বিষয়টা একটু ভিন্ন। আমরা মিয়ানমার সীমান্তে দেখেছি, আরাকান আর্মির সঙ্গে মিয়ানমার সরকারের সবসময় একটা যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে, যার মধ্যে আমরা সেন্ডুইস হচ্ছি অনেকটা। তার মধ্যে আরো কিছু বিদ্রোহী গ্রুপ আছে, আরসা, আরএসও সহ বিভিন্ন সংগঠন আছে তাদের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন সময় সংঘর্ষ হয়, যার প্রভাবটা আমাদের এখানেও আসে। যার কারণে মাদক চোরাচালান, অস্থীতিশীল অবস্থা এবং অনেক সময় গোলাগুলির কারণে সীমান্তে আমাদের নাগরিকরাও মৃত্যুবরণ করেছে। সেজন্য আমাদের প্রস্তাব আছে সেসব সীমান্তে কাঁটা তারের বেড়া নির্মাণের জন্য।

তিনি বলেন, আমরা একজনকেও অবৈধভাবে এখানে পুশইন হতে দেইনি। বিজিবি ও জনগণের সহায়তায় আমরা সফলভাবে এখনো পর্যন্ত সেটা ঠেকাতে সক্ষম হয়েছি। কিছু কিছু অবৈধ অনুপ্রবেশ করেছিল, তার সংখ্যা বেশি নয়। সেটা আমরা অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। কিন্তু কাউকে অবৈধভাবে পুশইন করতে দেই নাই। পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাদের রাজনৈতিক এজেন্ডার কারণে তারা হয়তো করতে চেয়েছে। কিন্তু আমরা কথা বলবো কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে। আমরা বলেছি যদি সেখানে এমন কোনো বাংলাদেশি নাগরিক থাকে সেটা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দিতে হবে। আমরা সেগুলো যাচাই বাছাই করবো, যদি সত্যতা পাওয়া যায় আমরা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় আমরা ফেরত নিয়ে আসবো। এ ছাড়া অন্য কোনো উপায় আমরা কাউকে অনুমোদ করবো না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *