মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী ৩০ লাখ শহীদ এবং সম্ভ্রম হারানো ২ লাখ নারীর পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়নসহ তাদের পরিবারকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিতে সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জনস্বার্থে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান এই নোটিশ পাঠান।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) মহাপরিচালক বরাবর এই নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এতে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে শহীদ ও নির্যাতিত নারীদের একটি যাচাইকৃত জাতীয় তালিকা প্রস্তুত করে তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে।
আইনি নোটিশে উল্লেখ করা হয়, স্বাধীনতার পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও যাঁরা সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছেন, তাদের সুনির্দিষ্ট তালিকা তৈরি না করা একটি ঐতিহাসিক অবিচার। সরকার বর্তমানে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক ভাতা, কোটাসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সুবিধা প্রদান করছে, যা অত্যন্ত যৌক্তিক। তবে শহীদ পরিবার এবং নির্যাতিত নারীদের পরিবারের সদস্যদের এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট তালিকার আওতায় না আনা এবং তাদের ন্যায্য আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত রাখা ‘সুস্পষ্ট বৈষম্য ও সংবিধানের লঙ্ঘন’।
নোটিশে আরও বলা হয়, শহীদদের পরিবারের সদস্য এবং জীবিত বা মৃত বীরাঙ্গনাদের পরিবারের জন্য সম্মানজনক আর্থিক ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রণয়ন করা জরুরি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকার এ বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নিলে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জনস্বার্থে উচ্চ আদালতে রিট মামলা করা হবে বলে নোটিশে সতর্ক করা হয়েছে।
শহীদ ও নির্যাতিত নারীদের ত্যাগের মর্যাদা রক্ষায় এবং তাদের উত্তরসূরিদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও সহায়তা নিশ্চিত করতেই এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে নোটিশে উল্লেখ করেন আইনজীবী মাহমুদুল হাসান।











