লুকা মডরিচের জন্য ম্যাচটি ছিল এক অবিস্মরণীয় মাইলফলকের। ইতিহাসের চতুর্থ ফুটবলার হিসেবে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের ২০০তম ম্যাচ খেলতে নেমেছিলেন এই রিয়াল মাদ্রিদ মিডফিল্ডার। তার এমন ঐতিহাসিক রাতটি জয়ের রঙে রাঙাতে ভুল করেনি ক্রোয়েশিয়া। টরন্টোয় অনুষ্ঠিত ‘এল’ গ্রুপের ম্যাচে পানামাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপে টিকে রইল ইউরোপের দলটি। অন্যদিকে, টানা দুই হারে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেল উত্তর আমেরিকার দেশ পানামার।
এর আগে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে ৪-২ গোলে হেরেছিল ক্রোয়েশিয়া। আর ঘানার কাছে ১-০ ব্যবধানে হেরেছিল পানামা। ফলে এই ম্যাচটি দুই দলের জন্যই রূপ নিয়েছিল নকআউটের লড়াইয়ে।
ম্যাচের শুরু থেকেই টরন্টোর মাঠে দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজায়। তবে প্রথমার্ধে ক্রোয়েশিয়ার চেয়ে পানামাই বেশি বিপজ্জনক হয়ে উঠেছিল। ম্যাচের ২৩ মিনিটে ডান দিক থেকে আমির মুরিলোর ক্রসে মাথা ছুঁইয়েছিলেন হোসে লুইস রদ্রিগেজ। বাজপাখির মতো উড়ে সেটা ঠেকিয়ে দেন ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক ডমিনিক লিভাকোভিচ। ক্রোয়েশিয়াও কিছু সুযোগ তৈরি করলেও পানামার সুসংগঠিত ডিফেন্স ভাঙতে পারেনি। ফলে গোলশূন্য সমতা নিয়েই বিরতিতে যায় দুই দল।
বিরতির পর সম্পূর্ণ অন্য এক ক্রোয়েশিয়ার দেখা মেলে। অধিনায়ক লুকা মডরিচকে কেন্দ্র করে মাঝমাঠে একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে বলকান অঞ্চলের দলটি। তরুণ মিডফিল্ডার মার্টিন বাতুরিনা ও পেতার সুশিচের গতিময় ফুটবল পানামার রক্ষণকে ব্যস্ত করে তোলে। ধারাবাহিক সেই আক্রমণের ফল আসে ম্যাচের ৫৪ মিনিটে। ডিফেন্ডার ইয়োসিপ স্তানিসিচের পাস থেকে বল পেয়ে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে পানামার জাল কাঁপান অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার আন্তে বুদিমির।
পিছিয়ে পড়ে সমতায় ফিরতে মরিয়া পানামা ম্যাচের বাকি সময়ে ক্রোয়েশিয়ার বক্সে কয়েকবার চোখ রাঙালেও কাজের কাজটি করতে পারেনি। ক্রোয়েশিয়ার রক্ষণভাগ ও মধ্যমাঠের জমাট বাঁধুনির সামনে শেষ পর্যন্ত ভেস্তে যায় পানামার সব আক্রমণ। ম্যাচের ৮১ মিনিটে যখন ২০০তম ম্যাচের নায়ক লুকা মডরিচকে তুলে নেওয়া হয়, তখন গ্যালারিতে করতালির রোল। শেষ পর্যন্ত ১-০ ব্যবধান ধরে রেখেই উল্লাসে মাতে গতবারের সেমিফাইনালিস্টরা।











