বিশ্বজুড়ে খবর, এক ক্লিকেই

January 16, 2026 2:15 am
January 16, 2026 2:15 am

চ্যাটজিপিটিতে ভয়ংকর প্রশ্ন, ফ্লোরিডায় ১৩ বছরের শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রে এক কিশোর শিক্ষার্থী মজা করতেই গিয়েছিল— কিন্তু সেই “মজা”ই এখন তাকে আইনের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। ফ্লোরিডার সাউথওয়েস্টার্ন মিডল স্কুলের ১৩ বছর বয়সী এক ছাত্র স্কুলের কম্পিউটার ব্যবহার করে চ্যাটজিপিটিকে প্রশ্ন করেছিল— “আমার বন্ধুকে কীভাবে হত্যা করতে পারি?”

স্কুলের স্বয়ংক্রিয় নজরদারি সফটওয়্যার Gaggle সঙ্গে সঙ্গে বার্তাটি শনাক্ত করে প্রশাসনের কাছে সতর্কবার্তা পাঠায়। নিরাপত্তা প্রোটোকল অনুসারে ক্যাম্পাস পুলিশ দ্রুতই শিক্ষার্থীকে শনাক্ত করে আটক করে।

পরে জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়— “আমি শুধু মজা করছিলাম, বন্ধুকে ট্রল দিচ্ছিলাম।” কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে স্কুলে বন্দুক হামলা ও সহিংসতার ভয়ংকর ইতিহাস থাকায় বিষয়টি হালকাভাবে নেয়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। স্থানীয় Volusia County Sheriff’s Office জানিয়েছে, শিশুটিকে কিশোর অপরাধ সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার পর অভিভাবকদের সতর্ক করে বলা হয়েছে, সন্তানদের এআই বা চ্যাটবট ব্যবহারে নজর রাখতে হবে।
শেরিফ অফিসের এক বিবৃতিতে বলা হয়, “আরেকটি ‘মজা’ যা স্কুলে ভয় ও আতঙ্ক ছড়িয়েছে। অভিভাবকরা দয়া করে সন্তানদের শেখান— ইন্টারনেটে বলা কথা বাস্তব পরিণতি ডেকে আনতে পারে।”

এটি প্রথমবার নয়, এআই নিয়ে এমন বিতর্ক আগেও হয়েছে।
২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে ক্যালিফোর্নিয়ার এক কিশোর আত্মহত্যা করলে তার পরিবার OpenAI-এর বিরুদ্ধে মামলা করে। অভিযোগ ছিল, চ্যাটজিপিটি তার মানসিক অবস্থাকে আরও খারাপ করে তুলেছিল এবং আত্মহত্যার পরিকল্পনা তৈরিতে সাহায্য করেছিল।

অন্যদিকে Gaggle নামের এই মনিটরিং সফটওয়্যার নিয়েও সমালোচনা রয়েছে। অনেকে বলছেন, এটি শিক্ষার্থীদের গোপনীয়তা ভঙ্গ করছে এবং স্কুলে “ডিজিটাল নজরদারি” সংস্কৃতি তৈরি করছে।
তবু হাজার হাজার স্কুল এখনো এই ধরনের সফটওয়্যার ব্যবহার করছে— যাতে এআই সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ বার্তা শনাক্ত করে শিক্ষক বা পুলিশকে তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *