বিশ্বজুড়ে খবর, এক ক্লিকেই

March 2, 2026 9:22 am
March 2, 2026 9:22 am

৩০ লাখ টাকার চাকরি ছেড়ে সিনেমায় — লক্ষ্য লালওয়ানির সাহসী সিদ্ধান্ত!

বলিউডে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে কত ত্যাগ স্বীকার করতে হয়—লক্ষ্য লালওয়ানির গল্প যেন তারই জীবন্ত উদাহরণবলিউডে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে কত ত্যাগ স্বীকার করতে হয়—লক্ষ্য লালওয়ানির গল্প যেন তারই জীবন্ত উদাহরণ। একসময় টেলিভিশনের জনপ্রিয় মুখ ছিলেন তিনি। “ওয়ারিয়র হাই” দিয়ে যাত্রা শুরু, এরপর “পরদেশ মে হ্যায় মেরা দিল” ও “পৌরস” সিরিজে অভিনয় করে ঘরে ঘরে পরিচিতি পান।

কিন্তু ছোট পর্দার সীমাবদ্ধতা ভেঙে বড় পর্দায় নিজেকে দেখতে চেয়েছিলেন লক্ষ্য। সেই স্বপ্নের টানে তিনি এমন এক সিদ্ধান্ত নেন, যা অনেকের কাছেই অবিশ্বাস্য—প্রতিদিন ১৫ হাজার রুপি আয় করা টেলিভিশন ক্যারিয়ার ছেড়ে দেন সিনেমার জন্য! অর্থাৎ, মাসে প্রায় ৩০ লাখ রুপির স্থিতিশীল আয় ছেড়ে ঝুঁকির পথে পা বাড়ান তিনি।

২০১৯ সালে করণ জোহরের ধর্মা প্রোডাকশনস-এর সঙ্গে তিনটি চলচ্চিত্রে চুক্তিবদ্ধ হন লক্ষ্য। প্রথমে ‘দোস্তানা ২’-এর মাধ্যমে কার্তিক আরিয়ান ও জাহ্নবী কাপুরের সঙ্গে অভিষেক হওয়ার কথা থাকলেও, মহামারির ধাক্কায় সিনেমার কাজ থেমে যায়। পরে ‘বেধড়ক’ নামের আরেকটি প্রজেক্টও বাতিল হয়।

তবুও হাল ছাড়েননি তিনি। ২০২৪ সালে ধর্মা প্রোডাকশনের ব্যানারে মুক্তি পায় ‘কিল’, আর এই সিনেমাই বদলে দেয় তার ক্যারিয়ারের গতিপথ। তুমুল প্রশংসা আর জনপ্রিয়তা এনে দেয় এই ছবিটি।

এরপর নেটফ্লিক্সে মুক্তি পায় শাহরুখপুত্র আরিয়ান খানের প্রথম ওয়েব সিরিজ “দ্য ব্যাডস অব বলিউড”, যেখানে লক্ষ্যের অভিনয় নতুন করে আলোচনায় আসে। আত্মবিশ্বাসী অভিনয়, পরিশীলিত উপস্থাপনা ও স্টাইল—সব মিলিয়ে দর্শক ও সমালোচক উভয়ের প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি।

এক সাক্ষাৎকারে লক্ষ্য বলেন,

“আমার বাবা বলেছিলেন, তুমি প্রতিদিন যত টাকা আয় করো, সেটাই আমার মাসিক বেতন। তবুও আমি জানতাম, আমি যা করতে চাই, তা এই চাকরিতে সম্ভব নয়।”

চলচ্চিত্র প্রযোজক রমেশ তৌরানি একবার রণবীর এলাহাবাদিয়াকে অবাক হয়ে বলেছিলেন—

“একটা ছেলে কীভাবে মাসে ৩০ লাখ টাকার কাজ ছেড়ে সিনেমায় ঝাঁপ দিতে পারে?”

লক্ষ্যের হাস্যোজ্জ্বল উত্তর ছিল,

“আমি জানতাম না এটা পাগলামি! আমি শুধু জানতাম, বড় পর্দায় নিজের নাম দেখতে চাই।”

বর্তমানে লক্ষ্যকে দেখা যাবে বিবেক সোনি পরিচালিত “চাঁদ মেরা দিল” সিনেমায়, যেখানে তার বিপরীতে অভিনয় করবেন অনন্যা পাণ্ডে।

ছোট পর্দা থেকে বড় পর্দায় যাত্রা সহজ ছিল না, কিন্তু লক্ষ্য লালওয়ানি প্রমাণ করেছেন—স্বপ্নে বিশ্বাস থাকলে ঝুঁকিই সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *