বিশ্বজুড়ে খবর, এক ক্লিকেই

December 1, 2025 3:57 am
December 1, 2025 3:57 am

জয়ের পর মামদানির সামনে এখন যেসব চ্যালেঞ্জ

নিউইয়র্ক সিটির নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানি নানা দিক থেকেই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। ১৮৯২ সালের পর তিনি শহরের সর্বকনিষ্ঠ মেয়র এবং আফ্রিকায় জন্ম নেওয়া প্রথম মুসলিম মেয়রও বটে।

মাত্র এক বছর আগেও দলীয় সমর্থন ছাড়াই সীমিত অর্থ ও পরিচিতি নিয়ে নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় নেমেছিলেন মামদানি। অথচ সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুওমো ও রিপাবলিকান প্রার্থী কার্টিস সিলওয়ার বিরুদ্ধে চমকপ্রদ জয় পেয়েছেন তিনি।

তরুণ ও প্রাণবন্ত এই রাজনীতিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেমন দক্ষ, তেমনি নিজের প্রজন্মের আদর্শকেও স্পষ্টভাবে ধারণ করেন। তিনি এমন এক রাজনীতিক, যাকে অনেক বামপন্থী বহুদিন ধরে খুঁজে ফিরেছেন— স্পষ্ট অবস্থান, উদার সমাজব্যবস্থা ও জনকল্যাণমূলক নীতির পক্ষে।

নির্বাচনী প্রচারণায় মামদানি ঘোষণা দিয়েছিলেন, শিশু যত্ন সেবা বিনা মূল্যে দেওয়া, গণপরিবহন সুবিধা সম্প্রসারণ এবং মুক্তবাজার ব্যবস্থায় সরকারি হস্তক্ষেপ বাড়ানোর মতো কর্মসূচি গ্রহণ করবেন। এতে তরুণ ও শ্রমজীবী ভোটারদের কাছে তিনি দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

তবে সমালোচকরা মনে করেন, তার মতাদর্শ আমেরিকার বৃহত্তর অংশে খুব একটা গ্রহণযোগ্য নয়। রিপাবলিকান দল ইতিমধ্যেই তাকে “অতি-বামপন্থী” হিসেবে চিহ্নিত করে রাজনৈতিক প্রচারণা শুরু করেছে। তবু মঙ্গলবার রাতে নিউইয়র্ক সিটিতে বিজয়ী হিসেবে উঠে আসেন জোহরান মামদানি।

সাবেক গভর্নর কুওমোর মতো রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত প্রার্থীকে হারিয়ে মামদানি মূলধারার রাজনীতিতে নতুন অধ্যায় খুলেছেন। তার এই সাফল্য মার্কিন গণমাধ্যমের ব্যাপক মনোযোগ কাড়ে। একই সঙ্গে, এখন থেকে তার প্রতিটি পদক্ষেপ ও নীতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

২০১৩ সালে ডেমোক্র্যাট বিল ডি ব্লাসিও বৈষম্যহীন নিউইয়র্ক গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু আট বছর পর তিনি জনপ্রিয়তা হারিয়ে সীমিত সাফল্যের রেকর্ড নিয়ে বিদায় নেন। এখন একই প্রত্যাশা ও সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হচ্ছেন মামদানি।

নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোচুল ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, তিনি মামদানির উচ্চাভিলাষী এজেন্ডার জন্য প্রয়োজনীয় কর বৃদ্ধির বিরোধিতা করবেন। তহবিল থাকা সত্ত্বেও এসব উদ্যোগ এককভাবে বাস্তবায়ন করা মামদানির পক্ষে সম্ভব নয়।

এ ছাড়া কর্পোরেট ও ব্যবসায়ী গোষ্ঠী, যাদের বিরুদ্ধে প্রচারণার সময় কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন, এখন তাদের সঙ্গেই সমঝোতা করে শহরের প্রশাসনিক ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে তাকে। বিশ্লেষকদের মতে, এটাই হবে তার প্রথম বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা।

বিদেশনীতি নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। গাজা যুদ্ধ ইস্যুতে ইসরায়েলের ভূমিকার নিন্দা জানিয়ে তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন— ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে তাকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে গ্রেপ্তার করা উচিত। অনেকেই মনে করছেন, মেয়াদে কোনো এক সময় এ প্রতিশ্রুতিই মামদানির জন্য বড় রাজনৈতিক সংকটে রূপ নিতে পারে।

অন্যদিকে, তাকে এখন দ্রুত নিজের পরিচয় ও অবস্থান জনসাধারণের সামনে প্রতিষ্ঠা করতে হবে— তার বিরোধীরা সেটি করার আগেই। সিবিএসের সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৪৬ শতাংশ আমেরিকান নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচন ঘনিষ্ঠভাবে অনুসরণই করেননি। বিশ্লেষকদের মতে, এটি মামদানির জন্য যেমন সুযোগ, তেমনি চ্যালেঞ্জও।

রক্ষণশীল রাজনীতিকরা ইতিমধ্যেই তাকে “সমাজতান্ত্রিক হুমকি” হিসেবে উপস্থাপন শুরু করেছেন। তাদের মতে, মামদানির নীতি যদি জাতীয়ভাবে গ্রহণ করা হয়, তবে তা দেশের অর্থনীতির জন্য বিপদ ডেকে আনবে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও তার সঙ্গে সরাসরি রাজনৈতিক সংঘর্ষে যেতে পারেন।

একইসঙ্গে মামদানিকে নিজের দলের মধ্যেও সমর্থন বাড়াতে হবে। সিনেটর চাক শুমারসহ শীর্ষ ডেমোক্র্যাট নেতারা এখনো পর্যন্ত তাকে প্রকাশ্যে সমর্থন জানাননি।

তবে মামদানি অতীতের কোনো বিতর্কে জড়িত নন— এটাই তার সবচেয়ে বড় সুবিধা। জানুয়ারিতে শপথ নেওয়ার পর থেকেই তিনি নিজের রাজনৈতিক ভাবমূর্তি গড়ে তোলার সুযোগ পাবেন। আর তার বিরোধিতা করলে ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থান বরং মামদানির পক্ষে জনসমর্থন বাড়াতে পারে বলেও অনেকেই মনে করছেন।

তবে সামনে অপেক্ষা করছে কঠিন সময়। অর্থনীতি, আইনশৃঙ্খলা ও বৈষম্য— এই তিনটি ক্ষেত্রেই এখন তাকে বাস্তব পরীক্ষার মুখে পড়তে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *