বিশ্বজুড়ে খবর, এক ক্লিকেই

December 1, 2025 3:41 am
December 1, 2025 3:41 am

অনশন ভাঙাতে কেন বেছে নেওয়া হয় ডাবের পানি

বাংলাদেশে কিংবা দক্ষিণ এশিয়ার যে কোনো প্রেক্ষাপটে অনশন ভাঙানোর সময় ডাবের পানি খাওয়ানো যেন এক অনিবার্য দৃশ্য। দাবি আদায়ে আমরণ অনশন—সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের রূপ হিসেবে বিবেচিত—শেষ হয় সাধারণত ডাবের পানির এক চুমুকেই। কিন্তু কখনো কি ভেবেছেন, কেনই বা এই পানীয়টিই বেছে নেওয়া হয়?

আমরণ অনশন শুরু হয় সচেতন প্রতিবাদের এক নিঃশব্দ প্রতিজ্ঞা থেকে। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সময় থেকেই এই পদ্ধতি আমাদের রাজনীতিতে প্রভাব ফেলেছে। কিন্তু অনশন দীর্ঘায়িত হলে শরীরে দেখা দেয় নানা জটিলতা। না খেয়ে থাকার ফলে অ্যাসিডিটি, রক্তচাপ হ্রাস, পেশি দুর্বলতা, এমনকি হজমতন্ত্রের কার্যকারিতা পর্যন্ত কমে যায়। শরীর তখন চরম দুর্বল অবস্থায় পৌঁছে যায়, যেখানে হঠাৎ ভারী খাবার গ্রহণ প্রাণঘাতীও হতে পারে।

এমন অবস্থায় প্রয়োজন হয় এমন কিছু, যা শরীরকে ধীরে ধীরে পুষ্টির স্বাভাবিক প্রবাহে ফিরিয়ে আনে। এখানেই আসে ডাবের পানির ভূমিকা। প্রকৃতির তৈরি এই স্বচ্ছ পানীয় শুধু তৃষ্ণা নিবারণই করে না, বরং এতে থাকা প্রাকৃতিক ইলেক্ট্রোলাইট, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, সোডিয়াম ও ভিটামিন সি দ্রুত শক্তি জোগায় ক্লান্ত শরীরে। এতে চিনি বা ফ্যাটের পরিমাণ খুবই কম, যা দুর্বল পাকস্থলীর জন্য আদর্শ।

ডাবের পানিতে রয়েছে প্রাকৃতিক অ্যান্টি-অ্যাসিডিক উপাদান, যা দীর্ঘ সময় উপবাসে ক্ষতিগ্রস্ত হজমতন্ত্রকে আরাম দেয়। এটি শরীরের বিষাক্ত উপাদান বের করে দেয় এবং ধীরে ধীরে বিপাকক্রিয়াকে পুনরায় সচল করে। এ কারণেই দীর্ঘ উপবাস বা অনশন শেষে এই পানীয়টি নিরাপদ ও কার্যকর বলে মনে করা হয়।

চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদরা বলেন, “অনশন ভাঙানোর সময় সরাসরি ভারী খাবার দেওয়া বিপজ্জনক। ডাবের পানি শরীরকে পুনরুজ্জীবিত করে এবং হজমতন্ত্রকে পুনরায় খাবার গ্রহণের উপযোগী করে তোলে।”

অতএব, ডাবের পানি অনশন ভাঙানোর প্রতীক হয়ে উঠেছে শুধুমাত্র ঐতিহ্যের কারণে নয়, বরং এর বৈজ্ঞানিক ও পুষ্টিগত যৌক্তিকতার কারণেই। এক চুমুক ডাবের পানি যেন শুধু অনশন ভাঙানো নয়—এটি এক শান্তির ঘোষণা, পুনর্জীবনের সূচনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *