বিশ্বজুড়ে খবর, এক ক্লিকেই

January 16, 2026 3:40 am
January 16, 2026 3:40 am

দিল্লি বিস্ফোরণে প্রথমবার ব্যবহৃত ভয়ংকর গাড়ি-বোমা প্রযুক্তি

ভারতের রাজধানী দিল্লি আবারও কেঁপে উঠল এক ভয়াবহ বিস্ফোরণে। ১০ নভেম্বর সন্ধ্যায় ঐতিহাসিক লাল কেল্লা মেট্রো স্টেশনের সামনে হঠাৎ করে আগুনের গোলায় পরিণত হয় একটি সাদা হুন্দাই গাড়ি। মুহূর্তের মধ্যেই তীব্র বিস্ফোরণে প্রাণ হারান ১৩ জন, আহত হন অন্তত ২৩ জন। ঘটনাস্থলে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক আর ধোঁয়া—এক সময়ের ব্যস্ত রাস্তাটি মুহূর্তেই পরিণত হয় মৃত্যুপুরীতে।

ভারতীয় গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, বিস্ফোরণে ব্যবহৃত গাড়িটিতে ছিল অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট, জ্বালানি তেল ও ডেটোনেটরের মিশ্রণে তৈরি এক নতুন ধরনের বোমা—যা দেশে আগে কখনও দেখা যায়নি। গাড়িটিকে এমনভাবে সাজানো হয়েছিল যে, বাইরে থেকে দেখতে ছিল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক, কিন্তু ভেতরে লুকিয়ে ছিল উচ্চমাত্রার বিস্ফোরক। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই “দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি” গাড়ি-বোমাটি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত বোমার সঙ্গে তুলনাযোগ্য ধ্বংসক্ষমতা রাখে।

তদন্তে জানা গেছে, গাড়িটি চালাচ্ছিলেন ডা. উমর নবি নামের এক চিকিৎসক, যিনি ফরিদাবাদের আল ফালাহ মেডিক্যাল কলেজে কর্মরত ছিলেন। ২৯ অক্টোবর তিনি স্থানীয় এক বিক্রেতার কাছ থেকে হুন্দাই আই–২০ গাড়িটি কেনেন। সেই গাড়িতেই ঘটনার দিন বিস্ফোরণ ঘটে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, গাড়িটি লাল কেল্লা মেট্রো স্টেশনের ১ নম্বর গেটের সামনে ধীরে চলার সময় হঠাৎ করেই আগুনে জ্বলে ওঠে।

নিরাপত্তা সংস্থার প্রাথমিক ধারণা—উমর নবি হয়তো গাড়ির বিস্ফোরক সরানোর বা নিষ্ক্রিয় করার চেষ্টা করছিলেন, ঠিক সেই সময় ভুল সংযোজনে বিস্ফোরণ ঘটে। ফলে পুরোপুরি ধ্বংস না হলেও প্রাণহানি ঘটে ব্যাপকভাবে।

পুলিশ জানিয়েছে, এই হামলায় ব্যবহৃত বিস্ফোরকটি ভারতে প্রথমবারের মতো গাড়ি-বোমা আকারে তৈরি করা হয়েছিল। ২০১১ সালের মুম্বাই ও ২০১২ সালের পুনে হামলায় অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ব্যবহৃত হলেও, গাড়িবোমা আকারে এত উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের নজির ছিল না।

তদন্তে আরও বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। উমর নবির সহকর্মী ডা. মুজাম্মিল শাকিল ও ডা. আদিল আহমদ রাদারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে প্রায় তিন টন বিস্ফোরক ও অস্ত্র। এছাড়া, লখনউয়ের নারী চিকিৎসক ডা. শাহিন সাঈদকেও আটক করা হয়েছে, যিনি পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মদের নারী শাখা গঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, দিল্লির এই বিস্ফোরণ শুধু ভারতের নয়, গোটা দক্ষিণ এশিয়ার জন্য এক ভয়াবহ সতর্কবার্তা। পাকিস্তানের ইসলামাবাদে আদালতের বাইরে পরদিনের বিস্ফোরণ যেন তারই এক পরিণতি। তারা বলছেন, “দিল্লির আগুন এখন নিভে গেছে, কিন্তু তার ছাইয়ের নিচে লুকিয়ে আছে নতুন আতঙ্কের ছায়া।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *