দীর্ঘ বিরতির পর টেস্ট দলে ফিরে ব্যাট হাতে আলো ছড়ালেন মাহমুদুল হাসান জয়। সাত মাস পর সাদা পোশাকে মাঠে নেমেই দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে নতুন ইতিহাস গড়লেন এই ওপেনার। তিন অঙ্ক ছোঁয়ার অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে গড়লেন ক্যারিয়ারসেরা ইনিংসও।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় দিন শেষে ১৬৯ রানে অপরাজিত মাহমুদুল আগামীকাল ডাবল সেঞ্চুরির লক্ষ্যে ব্যাট করতে নামবেন। অপর প্রান্তে রয়েছেন মমিনুল হক, যিনি ৮০ রানে অপরাজিত থেকে নিজের ১৪তম সেঞ্চুরির দোরগোড়ায়।
দিনের শুরুটা ছিল বাংলাদেশের জন্য একেবারে স্বপ্নময়। ওপেনার সাদমান ইসলাম ও মাহমুদুল হাসান জয় গড়েন ১৬৮ রানের জুটি, যা ২০১৫ সালের পর থেকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ওপেনিং পার্টনারশিপ। ৮০ রানে আউট হওয়ার আগে সাদমান খেলেন ৯ চার ও ১ ছক্কার দৃষ্টিনন্দন ইনিংস।
এরপর মমিনুলকে সঙ্গে নিয়ে আরেকটি দারুণ জুটি গড়েন মাহমুদুল। দুজনে মিলে গড়েন ১৭০ রানের অপরাজিত পার্টনারশিপ। এই সময়ে জয় ১৪টি চার ও ৪টি ছক্কায় ১৬৯ রানে অপরাজিত থাকেন। অন্যদিকে, মমিনুলও ছক্কা মেরে নিজের হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করেন—ক্যারিয়ারের ২৩তম ফিফটি এটি।
দিনের শেষ মুহূর্তে বাংলাদেশ স্কোরবোর্ডে তোলে ১ উইকেটে ৩৩৮ রান, যা আয়ারল্যান্ডের চেয়ে ৫২ রানের লিড এনে দেয়। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর দল পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে ম্যাচটি।
এর আগে দিনের শুরুতে আয়ারল্যান্ড তাদের প্রথম ইনিংসে অলআউট হয় ২৮৬ রানে। সকালে মাত্র ১৪ বল টিকতে পেরেছিল দলটি। বাংলাদেশের পক্ষে শেষ দুই উইকেট ভাগ করে নেন তাইজুল ইসলাম ও হাসান মাহমুদ। অফস্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ ছিলেন বোলিংয়ের সেরা, নিয়েছেন ৩ উইকেট। হাসান, তাইজুল ও হাসান মুরাদ নেন ২টি করে উইকেট, একটি উইকেট যায় নাহিদ রানার ঝুলিতে।
পুরো দিনজুড়ে বাংলাদেশ দলের নিয়ন্ত্রণ ও ব্যাটসম্যানদের পরিপক্ব ইনিংস সিলেট টেস্টে এনে দিয়েছে শক্ত ভিত, যা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে বড় ভূমিকা রাখবে।











