মিরপুরে পাঁচ দিনের টেস্টের শেষ সকালেও যে প্রায় ৬০ ওভার ব্যাটসম্যানদের বল করতে হবে—এমনটা হয়তো কল্পনাতেও নেয়নি বাংলাদেশ দল। শেষ পর্যন্ত তা-ই হলো। সফরকারী আয়ারল্যান্ড চতুর্থ ইনিংসে এমন এক লড়াই উপহার দিল, যা মিরপুরের ইতিহাসে জায়গা করে নেবে নিশ্চিতভাবেই। তবু শেষ হাসি বাংলাদেশের—২১৭ রানের জয়ে সিরিজে হলো ক্লিন সুইপ।
মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের চতুর্থ ইনিংসে এখন পর্যন্ত কোনো সফরকারী দল ১০০ ওভার ব্যাট করতে পারেনি কিংবা ২৫০ রানও অতিক্রম করতে পারেনি—এটাই ছিল ইতিহাস। কিন্তু কার্টিস ক্যাম্ফারের অবিশ্বাস্য দৃঢ়তার দিনে সেই ইতিহাস নতুন করে লেখা হলো। ১১৩.৩ ওভার লড়ে ২৯১ রানে অলআউট হয় আয়ারল্যান্ড, যা সফরকারী দলের সর্বোচ্চ চতুর্থ ইনিংস স্কোর মিরপুরে।
ক্যাম্ফার খেললেন ২৫৯ বলের টানা মনোসংযোগের ইনিংস—৭১ রান তাঁর ব্যাটে। এভাবে ২০২৩ সালে সাকিব আল হাসানের ২১২ বলে খেলা ৯৬ রানের ইনিংসের পর মিরপুরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বল মোকাবিলা করলেন তিনি। তবে দিনের আরেকটি বড় রেকর্ড এলো তাইজুল ইসলামের হাত ধরে। সাকিবকে ছাড়িয়ে টেস্টে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হলেন তিনি—২৫০ উইকেট স্পর্শ করে বাঁহাতি স্পিনারদের মধ্যে দ্রুততম হিসেবে রাঙ্গনা হেরাথকেও ছাড়িয়ে গেলেন।
পঞ্চম দিনের শুরুতে ক্যাম্ফারের সঙ্গী ছিলেন অ্যান্ডি ম্যাকব্রাইন। সেই জুটি ভাঙেন তাইজুলই—২১ রানে ফিরিয়ে দেন ম্যাকব্রাইনকে। এরপর ক্যাম্ফারের সঙ্গে নেইল গড়েন ৪৮ রানের জুটি। নেইলকে ফিরিয়ে দেন মেহেদী হাসান মিরাজ, যেখানেই খানিকটা আশা ফিরে পায় বাংলাদেশ। কিন্তু গ্যাভিন হোয়েকে নিয়ে আবার জুটি বাঁধেন ক্যাম্ফার। ১৯১ বলে ৫৪ রান করে দলকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন দুজন।
শেষ পর্যন্ত হাসান মুরাদের ধারালো বলই আয়ারল্যান্ডের প্রতিরোধ থামায়। প্রথমে এলবিডব্লিউ হন হোয়ে, পরের বলেই বোল্ড হয়ে যান ম্যাথু হামফ্রিজ। দীর্ঘ ধৈর্যের লড়াই শেষ, বাংলাদেশের জয় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত।
লড়াইটা আয়ারল্যান্ড দিয়েছে, কিন্তু ফলাফলে অপরিবর্তিত—বাংলাদেশের মিরপুরে আরেকটি দাপুটে টেস্ট জয়, সিরিজেও ক্লিন সুইপ।











