রাজধানীতে ঘোষিত ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচির দিনও গণপরিবহন বন্ধ থাকছে না। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) অন্যান্য দিনের মতোই বাস চলাচল স্বাভাবিক রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি। বুধবার বিকেলে সংগঠনটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী মো. জোবায়ের মাসুদ গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, “পরিবহন বন্ধের কোনো নির্দেশ নেই। আমরা চাই, যাত্রীদের কষ্ট না হোক। তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।” সংগঠনটির পক্ষ থেকে দেশের সব টার্মিনালে চিঠি পাঠানো হয়েছে যাতে প্রতিটি বাসে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র রাখা এবং চালক–শ্রমিকদের সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
মালিক সমিতির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সম্প্রতি সড়কে বাড়তে থাকা সহিংসতা ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তারা উদ্বিগ্ন। গত সোমবার রাতে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে দগ্ধ হয়ে এক শ্রমিকের মৃত্যু এবং দুইজনের আহত হওয়ার ঘটনায় পরিবহন খাতজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সেই ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন টার্মিনালে পরিবহন শ্রমিকরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।
জানা গেছে, শ্রমিকরা বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত টার্মিনাল এলাকাগুলো পাহারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যাতে কোনো নাশকতা বা অগ্নিসংযোগের ঘটনা না ঘটে।
রাজধানীজুড়ে সাম্প্রতিক সহিংসতা ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় বুধবার কিছুটা কম দেখা গেছে বাস ও অন্যান্য গণপরিবহন। তবে বৃহস্পতিবার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা হয়েছে।
একাধিক সূত্র বলছে, কর্তৃপক্ষ চাইছে রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেও যাতে নাগরিকদের যাতায়াত ব্যাহত না হয়, আবার সড়কেও যেন কোনোভাবে অগ্নিসন্ত্রাসের পুনরাবৃত্তি না ঘটে।











