দেশের পোলট্রি খাত নিয়ন্ত্রণে থাকা করপোরেট সিন্ডিকেটের একচেটিয়া দৌরাত্ম্য ভাঙা ও ন্যায্য বাজার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাসহ সাত দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএ)। সংগঠনটির নেতারা সতর্ক করে বলেছেন, দাবি না মানলে আগামী ১ নভেম্বর থেকে সারাদেশে ডিম ও মুরগি উৎপাদন বন্ধ থাকবে।
শনিবার রাজধানীর ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন বিপিএ সভাপতি সুমন হাওলাদার। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, “দেশের প্রান্তিক খামারিরা অমানবিক পরিস্থিতিতেও উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু ফিড, বাচ্চা ও ওষুধের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, করপোরেট সিন্ডিকেটের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ এবং সরকারের অদক্ষ তদারকির কারণে পুরো পোলট্রি খাত ধ্বংসের মুখে।”
সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে
১. করপোরেট সিন্ডিকেট ভেঙে ফিড, বাচ্চা, ওষুধ ও টিকার দাম সরকার কর্তৃক নির্ধারণ।
২. করপোরেট প্রভাবমুক্ত ও স্বচ্ছ বাজারব্যবস্থা গড়ে তোলা।
৩. নীতিনির্ধারণ পর্যায়ে প্রান্তিক খামারিদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা।
৪. ফিড ও ওষুধের বাজারে নিয়মিত নিরীক্ষা কার্যক্রম চালু করা।
৫. উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে ১০ শতাংশ লাভ যুক্ত করে ডিম ও মুরগির ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ।
৬. ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের জন্য প্রণোদনা, ভর্তুকি ও সহজ শর্তে জামানতবিহীন ঋণ প্রদান।
৭. দুর্নীতিগ্রস্ত ও করপোরেট স্বার্থে কাজ করা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।
সুমন হাওলাদার বলেন, “বিগত সরকারের সময় যেমন সিন্ডিকেট সক্রিয় ছিল, বর্তমান সরকারেও সেই অবস্থা বহাল আছে। আমরা বহুবার আলোচনায় বসেছি, কর্মসূচি দিয়েছি, তবুও বাস্তবায়ন হয়নি কোনো দাবি।”
তিনি আরও জানান, “আগামী ১৫ দিনের মধ্যে যদি সরকার নিবন্ধনহীন সংগঠন বিপিআইসিসিসহ বড় করপোরেট কোম্পানিগুলোর একচেটিয়া বাজার নিয়ন্ত্রণ বন্ধ না করে, তাহলে প্রান্তিক খামারিরা ১ নভেম্বর থেকে পর্যায়ক্রমে খামার বন্ধ ও উৎপাদন স্থগিত কর্মসূচি শুরু করবে।”
বিপিএ সভাপতির অভিযোগ, “প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র না জেনে করপোরেট গ্রুপের নির্দেশে কাজ করছেন। অথচ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের ২০২৩ সালের গবেষণায় প্রমাণিত, প্রতি কেজি ফিডে ১৫-২০ টাকা অতিরিক্ত দাম নিচ্ছে কোম্পানিগুলো।”
তিনি প্রশ্ন তোলেন, “যখন প্রতিবেশী দেশগুলোতে এক কেজি ফিড ৩২-৪০ টাকায় পাওয়া যায়, সেখানে বাংলাদেশে কেন তা ৬০-৬৫ টাকা? এক ডিম উৎপাদনে খরচ ১০ টাকা আর ব্রয়লারের কেজি উৎপাদন খরচ ১৫০ টাকার বেশি কেন?”
সুমনের মতে, “চাল, ডাল বা পেঁয়াজের মতোই ফিড, বাচ্চা ও টিকা বিদেশ থেকে আমদানি করতে দিলে বাজারের ভারসাম্য ফিরে আসবে। করপোরেট সিন্ডিকেট বিলুপ্ত হলে খামারিরা বাঁচবে, জনগণও ন্যায্য দামে প্রোটিন পাবে।”
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি বাপ্পি কুমার দে, সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খন্দকার, সাংগঠনিক সম্পাদক ইকবাল হোসেন, ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সোহেল রানা প্রমুখ।











