বিশ্বজুড়ে খবর, এক ক্লিকেই

January 16, 2026 2:33 am
January 16, 2026 2:33 am

সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ৩০ টাকা

মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানী ঢাকার খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ কমে যাওয়া ও আমদানি হ্রাসই এই হঠাৎ মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ। তারা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত নতুন চালান না এলে দাম আরও বাড়তে পারে।

সরবরাহ ঘাটতির অজুহাত

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ কমে গেছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, দেশীয় মৌসুম শেষ হওয়ায় এবং ভারত থেকে আমদানি বন্ধ থাকায় বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ আবার অভিযোগ তুলেছেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে পেঁয়াজ মজুত করছেন।

কারওয়ান বাজারের মাতৃ ভাণ্ডারের মালিক সজীব শেখ বলেন,

“অক্টোবর পর্যন্ত সরবরাহ স্বাভাবিক ছিল, কিন্তু এরপর থেকেই কমতে শুরু করেছে। এখন পাইকারি বাজারেই কেজিপ্রতি দাম ২৮ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে।”

তিনি আরও জানান, সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে কৃষকদের মজুত করা অনেক পেঁয়াজ নষ্ট হয়েছে, ফলে সরবরাহ আরও কমেছে।

মজুতের অভিযোগ

কারওয়ান বাজারের অন্যান্য ব্যবসায়ীরাও জানান, কিছু পাইকারি ব্যবসায়ী এখন পেঁয়াজ মজুত করতে শুরু করেছেন। এতে বাজার অস্থিতিশীল হয়ে পড়ছে।

পাইকারি ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও আমদানিকারক মোহাম্মদ মাজেদ বলেন,

“নতুন দেশি পেঁয়াজ বাজারে আসতে আরও ছয় সপ্তাহ লাগবে। তার আগ পর্যন্ত সরবরাহে ঘাটতি থাকবে। ভারত থেকে আমদানি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় দেশি পেঁয়াজের ওপর চাপ বেড়েছে।”

তিনি পরামর্শ দেন, দ্রুত আমদানি শুরু না করলে দাম আরও বাড়তে পারে।

খুচরা বাজারে আগুন

শুক্রবার রাজধানীর শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, ইব্রাহিমপুর, নিউ মার্কেট, হাতিরপুল ও কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দেশীয় পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ১১০–১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহেও এই দাম ছিল ৮০–৯০ টাকা

ইউসুফ সবজিবিতানের মালিক মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন,

“গত সপ্তাহে ৮০–৯০ টাকায় বিক্রি করেছি, এখন ১১৫–১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাইকাররা স্পষ্ট কিছু বলতে পারছেন না।”

ভোক্তাদের ক্ষোভ

ইব্রাহিমপুরের বাসিন্দা মনির হোসেন বলেন,

“গত সপ্তাহে ৮০ টাকায় কিনেছি, আজ ১১০ টাকা। সরবরাহ কমলে দাম ধীরে ধীরে বাড়ার কথা, কিন্তু হুট করে এত বাড়া সন্দেহজনক।”

মুদি দোকানদার মোহাম্মদ রনি বলেন,

“দাম বাড়ার পর ক্রেতারা প্রতিবাদ করায় কয়েক দিন বিক্রি বন্ধ রেখেছিলাম। এখন আবার ১১০ টাকায় বিক্রি করছি, কারণ সবাই একই দামে বিক্রি করছে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *