দেশের শেয়ারবাজারে গত সপ্তাহজুড়ে চলেছে টানা দরপতন। ফলে যে কয়টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, তার তুলনায় কমেছে সাড়ে আট গুণ বেশি প্রতিষ্ঠানের। এতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার মূলধন কমেছে ৮ হাজার ৬৩২ কোটি টাকারও বেশি।
বাজার মূলধনে বড় ধস
সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে লেনদেন শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়ায় ৬ লাখ ৯০ হাজার ৯১৫ কোটি টাকা, যা আগের সপ্তাহের ৬ লাখ ৯৯ হাজার ৫৪৭ কোটি টাকা থেকে কমে গেছে ৮ হাজার ৬৩২ কোটি টাকা বা ১ দশমিক ২৩ শতাংশ। আগের সপ্তাহেও বাজার মূলধন কমেছিল ৫ হাজার ৭৯৬ কোটি টাকা। ফলে দুই সপ্তাহে বাজার হারিয়েছে ১৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি।
দাম কমেছে ৩৪০ কোম্পানির
গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে মাত্র ৪০টির দাম বেড়েছে, বিপরীতে ৩৪০টির দাম কমেছে এবং ৯টির দাম অপরিবর্তিত ছিল। অর্থাৎ দাম কমেছে দাম বাড়ার চেয়ে প্রায় ৮ দশমিক ৫ গুণ বেশি প্রতিষ্ঠানের।
সূচকে বড় পতন
প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স সপ্তাহজুড়ে কমেছে ১৫৪ দশমিক ২৮ পয়েন্ট বা ৩ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ। আগের সপ্তাহেও সূচকটি কমেছিল ২৭ দশমিক ৬৭ পয়েন্ট।
একইভাবে ডিএসই শরিয়াহ সূচক কমেছে ৪৩ দশমিক ৪২ পয়েন্ট বা ৪ শতাংশ এবং ডিএসই-৩০ সূচক কমেছে ৪৭ দশমিক ১৪ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ৩৭ শতাংশ।
লেনদেনে সামান্য গতি
দরপতনের মধ্যেও কিছুটা বেড়েছে লেনদেন। সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে ৪৮৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকার, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় ৫ দশমিক ৯২ শতাংশ বেশি।
শীর্ষ লেনদেনকারী কোম্পানি
লেনদেনের শীর্ষে ছিল আনোয়ার গ্যালভানাইজিং। কোম্পানিটির প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে ২৪ কোটি ২৯ লাখ টাকা, যা মোট লেনদেনের ৫ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ।
দ্বিতীয় স্থানে সামিট এলায়েন্স পোর্ট, গড় লেনদেন ২৩ কোটি ৮৯ লাখ টাকা।
তৃতীয় স্থানে ওরিয়ন ইনফিউশন, যার প্রতিদিনের গড় লেনদেন ২০ কোটি ১৮ লাখ টাকা।
এ ছাড়া শীর্ষ দশে জায়গা পেয়েছে খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, মনোস্পুল পেপার, সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল, প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স এবং সোনালী পেপার।










