ইসরায়েলে আটক অবস্থায় এক ফিলিস্তিনি সাংবাদিক নির্মম যৌন সহিংসতা ও অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন—ফিলিস্তিন সেন্টার ফর দ্য প্রোটেকশন অব জার্নালিস্টস (পিসিপিজে)–এর প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে এমন প্রতিবেদন দিয়েছে মিডল ইস্ট মনিটর। সংগঠনটি জানিয়েছে, নির্যাতনের ভয়াবহতায় সাংবাদিকটি দীর্ঘ সময় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন এবং দু’মাসের বেশি সময় ধরে গুরুতর মানসিক অস্থিতিশীলতায় ভুগেছেন। এ ঘটনাকে তারা ইসরায়েলি কারাগারগুলোতে সাংবাদিকদের ওপর সংঘটিত অন্যতম মারাত্মক অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনাটি ঘটেছে স্দে তাইমান আটকশিবিরে। সেখানে সাংবাদিকসহ আটজন বন্দিকে ক্যাম্পের এক নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। হাতকড়া ও চোখ বাঁধা অবস্থায় তাদের পালাক্রমে যৌন সহিংসতার শিকার করা হয়। উপস্থিত সেনাদের কেউ কেউ পুরো নির্যাতন ভিডিও করে ভুক্তভোগীদের অপমান করে—যা মানবাধিকার সংগঠনগুলোর ভাষায় আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন।
পরিবারের নিরাপত্তার স্বার্থে সাংবাদিকটির পরিচয় গোপন রেখে ‘ইয়াহিয়া’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, নির্যাতনের পুরো ঘটনাটি কয়েক মিনিট স্থায়ী হলেও তার মানসিক অভিঘাত এত গভীর ছিল যে তিনি দীর্ঘ সময় কোনোকিছু স্বাভাবিকভাবে করতে পারছিলেন না। চিকিৎসকেরা তার পরিস্থিতিকে একিউট স্ট্রেস ডিসঅর্ডার ও পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডারের উপসর্গের সঙ্গে মিল পেয়েছেন।
ইয়াহিয়া আরও জানিয়েছেন, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং আটক ব্যক্তিদের দমিয়ে রাখতে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ নিয়মিত যে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের আশ্রয় নেয়, এটি তারই অংশ। অভিযোগ করেছেন, তাকে প্রশিক্ষিত কুকুর ব্যবহার করেও আতঙ্কিত ও অপমানিত করা হয়েছে—যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদে নির্দিষ্টভাবে নিষিদ্ধ।
মোট ২০ মাস আটক অবস্থায় থাকা এই সাংবাদিকের দাবি প্রকাশ্যে আসার পর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে। তারা ঘটনার স্বাধীন ও স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করার দাবি তুলেছে এবং ইসরায়েলি কারাগারে আটক ফিলিস্তিনিদের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পুনর্মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়েছে।











