পূর্ব চীন সাগরের দীর্ঘদিনের বিরোধ আবারও তীব্র হয়েছে বিতর্কিত দ্বীপপুঞ্জের নিকটবর্তী জলসীমায় চীন ও জাপানের নৌযানের মুখোমুখি অবস্থানকে কেন্দ্র করে। দুই দেশের উপকূলরক্ষী বাহিনী ভিন্ন বর্ণনা দিলেও ঘটনাটি যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
চীনা কোস্ট গার্ডের দাবি, একটি জাপানি মাছধরা নৌযান দিয়াওইউ দ্বীপপুঞ্জের নিকট অবৈধভাবে প্রবেশ করে, যার পরিপ্রেক্ষিতে তাদের টহলজাহাজ নৌকাটিকে সরে যেতে বাধ্য করে। চীন দ্বীপপুঞ্জটিকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করলেও এর প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ বহুদিন ধরেই জাপানের হাতে।
অন্যদিকে জাপানের উপকূলরক্ষী বাহিনী দাবি করেছে, পরিস্থিতি ছিল ঠিক উল্টো; বরং চীনা কোস্ট গার্ডের দুটি জাহাজ জাপানি জলসীমায় ঢুকে পড়ায় জেসিজির টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের সেই অঞ্চল থেকে সরিয়ে দেয়।
সাম্প্রতিক কূটনৈতিক দ্বন্দ্বের মধ্যেই এই ঘটনা ঘটল। তাইওয়ান ইস্যুতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মন্তব্যকে কেন্দ্র করে চীন–জাপান উত্তেজনা বাড়ছে। তাকাইচি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তাইওয়ানে কোনো ধরনের সামরিক অভিযান চালালে টোকিওও প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে। চীন তাইওয়ানকে নিজের দাবি করে এসেছে দীর্ঘদিন ধরে এবং প্রয়োজনে বলপ্রয়োগের কথাও জানিয়েছে। এর পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে বক্তব্য-বিবৃতির ঝড় থামেনি।
চীন দাবি করেছে, মঙ্গলবারের ঘটনার সময় তারা আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়েছে। অপরদিকে জাপান জানায়, চীনা জাহাজগুলো ভোরে সেনকাকু জলসীমায় প্রবেশ করায় তাৎক্ষণিকভাবে তাদের বাধা দেওয়া হয়।
২০০৮ সালে পূর্ব চীন সাগরের সম্পদ যৌথ ব্যবহারে নীতিগত সমঝোতা হলেও বাস্তবে দুই দেশের সম্পর্ক আরও কড়াকড়ি হয়েছে। বসতিহীন সেনকাকু বা দিয়াওইউ দ্বীপপুঞ্জ এখন সেই বিরোধের কেন্দ্রস্থল। জাপানি বিশ্লেষকদের মতে, চীন ক্রমাগত এই অঞ্চলে বেশি টহলজাহাজ পাঠিয়ে জাপানের নিরাপত্তা প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণের চেষ্টা করছে।
গত বছরও চীনের সরকারি জাহাজের উপস্থিতি নতুন রেকর্ড তৈরি করে। সর্বশেষ নভেম্বর মাসেও চীনা টহলজাহাজ ওই এলাকায় প্রবেশ করেছিল, যা টোকিওর উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
পূর্ব চীন সাগরের উত্তেজনা যে ক্রমান্বয়ে আরও জটিল রূপ নিচ্ছে, মঙ্গলবারের ঘটনা তার সর্বশেষ উদাহরণ।











