বিশ্বজুড়ে খবর, এক ক্লিকেই

June 20, 2026 12:43 am
June 20, 2026 12:43 am

আ. লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে সংঘর্ষের আশঙ্কা, দেশজুড়ে পুলিশের বিশেষ সতর্কবার্তা

আদালতের নির্দেশে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের আসন্ন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে দেশজুড়ে বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করেছে পুলিশ সদর দপ্তর। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দেশের সব মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি ও জেলা পুলিশ সুপারদের কাছে পাঠানো এক জরুরি বার্তায় সম্ভাব্য কর্মসূচি মূল্যায়ন করে কঠোর নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কার কথাও বলা হয়েছে।আগামী ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এ উপলক্ষ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) পুলিশ সদর দপ্তর থেকে এই বিশেষ নির্দেশনা পাঠানো হয়।

পুলিশের উচ্চপর্যায়ের সূত্রগুলো জানায়, জরুরি বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে— প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় দলীয় কার্যালয়ে গোপনে বা প্রকাশ্যে পতাকা উত্তোলন এবং ব্যানার নিয়ে ঝটিকা মিছিল করার চেষ্টা হতে পারে। নিষিদ্ধ দলটির এমন তৎপরতা দেখা দিলে অন্যান্য রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে এনসিপির নেতাকর্মী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে মাঠপর্যায়ে বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া এসব কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়া হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপরও ক্ষোভ প্রকাশ বা হামলার ঘটনা ঘটতে পারে। এই বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মাঠপর্যায়ের পুলিশকে প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও আগাম নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা এই সংক্রান্ত নির্দেশনা পেয়েছি। তবে নির্দিষ্ট কোনো বড় থ্রেট বা হামলার আশঙ্কা নেই। এটি আমাদের নিয়মিত সতর্কতার অংশ।

তিনি আরও বলেন, সারা বছরই বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ধর্মীয় কর্মসূচি থাকে। আমাদের সামনে বড় ধর্মীয় কর্মসূচি হচ্ছে ১০ মহররমের পবিত্র আশুরা। পাশাপাশি ২৩ জুনের বিষয়টিও মাথায় রাখা হয়েছে। তাই আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে আছি। নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন পরিকল্পনা, বিশেষ নিরাপত্তা চেকপোস্ট ও নিয়মিত চিরুনি অভিযান অব্যাহত থাকবে।উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান। এরপর অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর থেকে দলটির সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও শীর্ষ নেতাদের একে একে গ্রেপ্তার করা হয়। অধিকাংশ জ্যেষ্ঠ নেতা বর্তমানে আত্মগোপনে থাকায় দলটির নিয়মিত কোনো রাজনৈতিক কার্যক্রম নেই।

গণ-আন্দোলন দমনে শত শত মানুষকে হত্যার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের বিচার চলছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। বিচার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত দলটির সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রমে আইনি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে এর মধ্যেও দেশের দু-একটি জায়গায় মাঝেমধ্যে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিলের চেষ্টা করতে দেখা গেছে, যা নিয়ে মাঠপর্যায়ে এখনও চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *