বিশ্বজুড়ে খবর, এক ক্লিকেই

July 6, 2026 12:23 am
July 6, 2026 12:23 am

শেরওয়ানি ফেলে আসায় মাঝপথ থেকে ফিরল বিমান, ভোগান্তিতে ১০০ যাত্রী!

বিয়ের শেরওয়ানি বাসায় ফেলে আসায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে উড্ডয়নের প্রস্তুতি নেওয়া একটি যাত্রীবাহী বিমান মাঝপথ থেকে ঘুরিয়ে আনার নজিরবিহীন এক ঘটনা ঘটেছে। ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী বেসরকারি এয়ারলাইন্স ‘এয়ার অ্যাস্ট্রা’র একটি ফ্লাইটে গত শুক্রবার (৩ জুলাই) এ ঘটনা ঘটে।

এতে ফ্লাইটে থাকা শিশু ও বৃদ্ধসহ প্রায় ১০০ যাত্রীকে চরম ভোগান্তি ও প্রায় তিন ঘণ্টার দীর্ঘ বিলম্বের মুখে পড়তে হয়।​উড্ডয়নের মুখে নিয়ম ভেঙে বিমান থামানো ওই যাত্রীর নাম গোলাম রাব্বি প্রিন্স, যিনি জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা ‘বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স’-এর একজন ফার্স্ট অফিসার (পাইলট)।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এয়ার অ্যাস্ট্রার ফ্লাইট ২এ-৪১৫ চট্টগ্রামের উদ্দেশে উড্ডয়নের কথা ছিল। বোর্ডিং শেষে বিমানটি যখন ট্যাক্সিওয়েতে (উড্ডয়নের আগের শেষ পথ) অবস্থান করছিল, তখন হঠাৎ ফার্স্ট অফিসার গোলাম রাব্বি প্রিন্স বিমান থেকে নেমে যাওয়ার জন্য হট্টগোল শুরু করেন।

কেবিন ক্রুরা তাকে জানান যে, গুরুতর চিকিৎসা বা নিরাপত্তাজনিত জরুরি পরিস্থিতি ছাড়া ট্যাক্সিওয়ে থেকে বিমান ফিরিয়ে আনার নিয়ম নেই। কিন্তু তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে নিজের অফিশিয়াল আইডি কার্ড বের করে চাপ সৃষ্টি করেন এবং একপর্যায়ে ককপিটে গিয়ে নিজের পরিচয় দেন। অভিযোগ রয়েছে, এয়ার অ্যাস্ট্রার দায়িত্বে থাকা পাইলট তার পূর্বপরিচিত হওয়ায় সব নিয়ম নীতি ও যাত্রী ভোগান্তিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বিমানটি পুনরায় টার্মিনালে ফিরিয়ে আনেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ফার্স্ট অফিসার গোলাম রাব্বি প্রিন্স পরিবারের ছয় সদস্য নিয়ে চট্টগ্রামে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যাচ্ছিলেন, কিন্তু তাড়াহুড়োয় নিজের শেরওয়ানি বাসায় ফেলে আসেন।

সেটি সংগ্রহের জন্যই তিনি এই খামখেয়ালি আচরণ করেন। পরে শেরওয়ানি এনে বিমানবন্দরে ফেরার পর দুপুর ১টার দিকে ফ্লাইটটি চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। এই দীর্ঘ সময় যাত্রীদের বসিয়ে রাখলেও এয়ার অ্যাস্ট্রা কর্তৃপক্ষ ন্যূনতম খাবার বা পানীয়ের ব্যবস্থাও করেনি বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন।আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) বিধি অনুযায়ী, গুরুতর জরুরি পরিস্থিতি ছাড়া ট্যাক্সিওয়ে থেকে বিমান ঘোরানোর সুযোগ নেই। এমনকি কোনো যাত্রী নেমে গেলে নিরাপত্তার স্বার্থে তাঁর সমস্ত লাগেজ অফলোড করে পুনরায় সিকিউরিটি চেকের নিয়ম থাকলেও, এয়ার অ্যাস্ট্রা এই নিরাপত্তা প্রটোকল লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ যাত্রীদের দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *