আমি এইচ. এম. ওবায়দুল ফাত্তাহ। আমি একজন প্রকাশ্য নাস্তিক। আল্লাহ, নবী-রাসুল, কোরআন, হাদিস, স্বর্গ-নরক বা পরকাল বলে কোনো কিছুর অস্তিত্বে আমি বিশ্বাস করি না। এসব আমার কাছে শুধুমাত্র মানুষের অজ্ঞতা, ভয়, কুসংস্কার এবং ক্ষমতালোভীদের দ্বারা তৈরি এক বিশাল প্রতারণার জাল। ধর্মকে আমি দেখি মানুষের মুক্তচিন্তা ও অগ্রগতির সবচেয়ে বড় শত্রু হিসেবে। বাংলাদেশে ইসলামপন্থীদের যে উত্থান ঘটছে, তা দেখে আমি ক্ষিপ্ত, রাগান্বিত এবং অত্যন্ত শঙ্কিত। এই লেখায় আমি আমার এই ক্ষোভ ও যুক্তিকে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরব।
প্রথমত, আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই যে ইসলাম কোনো শান্তির ধর্ম নয়। এটা একটি নির্মম, অসহিষ্ণু এবং নারী-বিদ্বেষী মতবাদ যা ইতিহাসজুড়ে রক্তপাত ও নিপীড়নের কারণ হয়েছে। বাংলাদেশের মাটিতে যখন এই ধর্মের পতাকা উঁচু করে ইসলামপন্থীরা মাথা তুলছে, তখন আমার মনে হয় দেশটা আবার সেই মধ্যযুগের দিকে ফিরে যাচ্ছে। তারা মাদ্রাসা, মসজিদ এবং ধর্মীয় সংগঠনের আড়ালে বিষ ছড়াচ্ছে। যুবসমাজকে অন্ধ করে তুলছে। এই উত্থান যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অন্ধকার।
কোরআন সম্পর্কে আমার অবস্থান খুবই স্পষ্ট। এটা কোনো ঐশ্বরিক বাণী নয়। এটা সপ্তম শতাব্দীর আরবের একজন মানুষের রচিত বই, যাতে বৈজ্ঞানিক ভুল, নৈতিক অসংগতি এবং হিংসার অজস্র উদাহরণ রয়েছে। আধুনিক বিজ্ঞানের সাথে এর অনেক আয়াত সরাসরি সাংঘর্ষিক। যারা এটাকে অবতীর্ণ বলে দাবি করে, তারা হয় নিজেরা অন্ধ অথবা জনগণকে অন্ধ রাখতে চায়। কোরআনের অনেক অংশ নারীদের অধস্তন করে, অবিশ্বাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নির্দেশ দেয় এবং মানবাধিকারের বিরোধিতা করে। এই বইয়ের অনুসরণ যত বেশি হবে, সমাজ তত বেশি পিছিয়ে পড়বে।
শরিয়ত আইনের কথা বললে তো আরও ভয় লাগে। এটা মানবসভ্যতার জন্য এক ভয়ানক অভিশাপ। হাত কাটা, পাথর ছুড়ে হত্যা, দাসপ্রথা, বহুবিবাহ, নারীদের পুরুষের সম্পত্তি হিসেবে দেখা— এসব নির্মম বিধান শরিয়তে স্পষ্টভাবে উল্লেখিত। বাংলাদেশে যারা শরিয়ত প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখছে, তারা আসলে দেশটাকে আফগানিস্তান বা ইরানের মতো এক অন্ধকার গর্তে পরিণত করতে চায়। নারীরা ঘরবন্দি হয়ে যাবে, মুক্তচিন্তা নিষিদ্ধ হবে, সংখ্যালঘুরা নির্যাতিত হবে এবং নাস্তিকদের গলা কাটার উন্মাদনা শুরু হবে। এই চিন্তা আমাকে রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে।
রাসুল (সাঃ) সম্পর্কে আমি কোনো রাখঢাক না রেখে বলছি— তিনি কোনো দৈবী ব্যক্তিত্ব ছিলেন না। তিনি ছিলেন সেই যুগের একজন সাধারণ যুদ্ধবাজ নেতা, যিনি ক্ষমতা, যৌনসুখ এবং রাজনৈতিক আধিপত্য লাভের জন্য ধর্মের নামে সবকিছু বৈধ করে নিয়েছিলেন। আয়েশার সঙ্গে বিয়ে, যুদ্ধবন্দী নারীদের সঙ্গে আচরণ, সমালোচকদের হত্যার নির্দেশ এবং অন্যের স্ত্রীকে নিজের করে নেওয়ার মতো ঘটনাগুলো তার মানবিক সীমাবদ্ধতা এবং ক্ষমতালোভের প্রমাণ। আজকের বিজ্ঞান ও যুক্তির যুগে এই ব্যক্তিকে অন্ধভাবে অনুসরণ করা ছাড়া আর কিছুই নয়। এটা মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক দাসত্ব।
বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি দেখে আমার মনে হয় দেশটা একটা সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে আছে। ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দল ও সংগঠনগুলো ধর্মের নামে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। তারা শিক্ষাব্যবস্থায় মাদ্রাসা শিক্ষাকে প্রাধান্য দিয়ে যুবকদের অন্ধ করে তুলছে। ফলে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং আধুনিক চিন্তাধারা থেকে আমাদের যুবসমাজ দূরে সরে যাচ্ছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে বাংলাদেশ কখনো উন্নত দেশের কাতারে পৌঁছাতে পারবে না।
আমি নাস্তিক হিসেবে বিশ্বাস করি যে মানুষই নিজের ভাগ্য নির্ধারণ করে। কোনো অদৃশ্য শক্তি বা আল্লাহ আমাদের সাহায্য করবে না। ধর্ম মানুষকে দুর্বল করে, ভয় দেখায় এবং যুক্তির পথ বন্ধ করে দেয়। বাংলাদেশের ইতিহাসে ধর্মীয় অন্ধত্ব বারবার দেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছিল ধর্মনিরপেক্ষতা, কিন্তু আজ সেই চেতনা ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে ইসলামী উত্থানের কারণে।
শরিয়তের নামে যে নারী নির্যাতন চলে, তা অমানবিক। নারীদের অধিকার হরণ করে, তাদেরকে পর্দার আড়ালে বন্দি করে রাখা— এটা কোনো সভ্য সমাজের লক্ষণ নয়। কোরআনের আয়াতগুলো নারীদেরকে পুরুষের অধীনস্থ করে রাখে। এই মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে বাংলাদেশের নারীসমাজ কখনো স্বাধীন হবে না।
আমি এই লেখায় বারবার বলছি যে ইসলামী মৌলবাদকে রুখতে হবে এখনই। যদি না রোধ করা হয়, তাহলে একদিন দেখবেন দেশের সব প্রতিষ্ঠান ধর্মীয় নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। বিচারব্যবস্থা শরিয়তের অধীনে চলবে, শিক্ষা ব্যবস্থা কোরআন-হাদিসের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠবে এবং মুক্তচিন্তার কোনো স্থান থাকবে না। এটা আমার জন্য স্বপ্নেরও অতীত এক ভয়াবহ দুঃস্বপ্ন।
নাস্তিকতা আমার কাছে শুধু একটা বিশ্বাস নয়, এটা একটা মুক্তির দর্শন। আমি বিজ্ঞান, যুক্তি এবং মানবতাকে সর্বোচ্চ মূল্য দিই। ধর্মের নামে যত প্রতারণা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে আমি সোচ্চার থাকব। কোরআনের ভুলগুলোকে এক এক করে তুলে ধরব। রাসুলের জীবনের নৈতিক অসংগতিগুলোকে উন্মোচিত করব। এতে যদি কেউ আঘাত পায়, তাতে আমার কিছু যায় আসে না। সত্য কথা বলতে আমি ভয় পাই না।
বাংলাদেশের যুবক-যুবতীদের প্রতি আমার আহ্বান— তোমরা ধর্মের অন্ধ অনুসরণ ছেড়ে বিজ্ঞানের বই পড়ো, যুক্তির চর্চা করো। মসজিদ-মাদ্রাসার পরিবর্তে ল্যাবরেটরি ও লাইব্রেরিতে সময় দাও। ইসলামপন্থীদের প্রচারণায় বিভ্রান্ত হয়ো না। তারা তোমাদের ভবিষ্যৎ কেড়ে নিতে চায়।
এই দেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর যে নির্যাতন চলে, তার পেছনেও ইসলামী চিন্তাধারা কাজ করে। অবিশ্বাসীদের প্রতি ইসলামের অবস্থান স্পষ্টভাবে বৈরী। এই বৈরিতা থেকে বেরিয়ে না আসলে দেশ কখনো শান্তিপূর্ণ হবে না।
আমার এই লেখা অনেকের কাছে বিতর্কিত মনে হতে পারে। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, বিতর্ক ছাড়া সমাজের অগ্রগতি সম্ভব নয়। ধর্মীয় সংবেদনশীলতার নামে সত্য গোপন করা যাবে না। ইসলামের সমালোচনা মানে মানবতার পক্ষে দাঁড়ানো।
বাংলাদেশকে একটি আধুনিক, ধর্মনিরপেক্ষ এবং মুক্তচিন্তার দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হলে ইসলামী মৌলবাদকে সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করতে হবে। শরিয়তের কোনো স্থান নেই এই দেশে। কোরআন-হাদিসকে রাষ্ট্রীয় নীতির ভিত্তি বানানো যাবে না।
আমি এই লড়াইয়ে একা নই। দেশে হাজার হাজার মুক্তমনা, নাস্তিক এবং যুক্তিবাদী মানুষ আছে যারা এই অন্ধকারের বিরুদ্ধে লড়ছে। আমরা একসাথে এই লড়াই চালিয়ে যাব। ভয় পাব না, পিছু হটব না।
শেষ কথা হিসেবে বলছি— বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে আমাদের এই প্রজন্মের সিদ্ধান্তের উপর। ধর্মের অন্ধকার ছেড়ে আলোর পথে এগিয়ে আসুন। যুক্তি জয়ী হোক, মানবতা জয়ী হোক। ইসলামী অন্ধকারের পুনরুত্থানকে রুখে দিতে হবে এখনই।
এইচ. এম. ওবায়দুল ফাত্তাহ
নাস্তিক চিন্তাবিদ ও লেখক











