শাপলা চত্বরের ঘটনাপ্রবাহ ঘিরে ‘জেনোসাইডের’ দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে এ মামলায়।
মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ১৩ বছর আগে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে ‘হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের’ মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
তাদের মধ্যে ‘পলাতক’ ৩১ জনের নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করার পাশাপাশি কারাগারে থাকা ১০ আসামিকে হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-২ সোমবার এ আদেশ দেয়। এ ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন—বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি মো. আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, “ট্রাইব্যুনাল ৪১ জনের বিরুদ্ধেই অভিযোগ আমলে নিয়েছেন। প্রয়োজনীয় আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হবে। ট্রাইব্যুনালের কাছে মামলাটির বিচারকাজ দ্রুত নিষ্পত্তি করার আবেদন জানানো হয়েছে।”
শাহবাগের আন্দোলনের বিপরীতে ব্লগারদের শাস্তির দাবিতে ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলে সমাবেশ ডাকে হেফাজতে ইসলাম। সেদিন সেই সমাবেশ ঘিরে পুরো মতিঝিল এলাকায় ব্যাপক সহিংসতা আর তাণ্ডব চলে। পরে সেই রাতে যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের মতিঝিল থেকে সরানো হয়।
চব্বিশের আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ২০ অগাস্ট শাপলা চত্বরের ঘটনা নিয়ে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করেন হেফাজতে ইসলামের যুগ্মমহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী। এর ভিত্তিতে নতুন করে তদন্ত শুরু হয়।
প্রধান কৌঁসুলি বলেন, শাপলা চত্বরের সেই ঘটনাপ্রবাহে মোট ৬১ জন নিহতের তথ্য পেয়েছে প্রসিকিউশনের তদন্ত দল, যার মধ্যে ৫৮ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।
“তদন্তে হেফাজতে ইসলামের নেতারা ও মানবাধিকার সংগঠন অধিকার সহযোগিতা করেছে। অধিকারের প্রতিবেদনকে একমাত্র প্রমাণ হিসেবে নয়, বরং নিজেদের তদন্তের সঙ্গে মিলিয়ে সহায়ক প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।
অভিযোগের আইনি ভিত্তি নিয়ে তিনি বলেন, “শাপলা চত্বরে ৩২ জন এবং ৬ মে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে আরও ২০ জনকে হত্যা করা হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ৩(২)(সি) ধারার আওতায় উভয় ঘটনাকেই জেনোসাইড হিসেবে অভিযোগে অন্তর্ভুক্ত করে দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। এখানে পলিটিক্যাল পারসিকিউশন, সিভিলিয়ান জনগোষ্ঠীর ওপর আক্রমণ এবং জেনোসাইড অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।”
আমিনুল ইসলাম বলেন, “তদন্তে আসামিদের পরিকল্পনা, ষড়যন্ত্র, সরাসরি অংশগ্রহণ এবং কিছু ক্ষেত্রে এক্সট্রা জুডিশিয়াল কনফেশনও পাওয়া গেছে।”











