অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস ও ব্যস্ত জীবনযাপনের প্রভাবে এখন তরুণদের মধ্যেও বাড়ছে থাইরয়েডজনিত সমস্যা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শরীরে আয়োডিনের ঘাটতিই এর অন্যতম কারণ। এই গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান শরীরের বিপাকক্রিয়া, শক্তি উৎপাদন ও হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে প্রধান ভূমিকা রাখে।
থাইরয়েডের সঙ্গে আয়োডিনের সম্পর্ক
শরীরের গলায় অবস্থিত থাইরয়েড গ্রন্থি আয়োডিন ব্যবহার করে থাইরয়েড হরমোন তৈরি করে। এই হরমোনই নিয়ন্ত্রণ করে শক্তি উৎপাদন, শরীরের তাপমাত্রা, হৃদস্পন্দন ও বৃদ্ধির প্রক্রিয়া।
আয়োডিনের ঘাটতি হলে গ্রন্থিটি পর্যাপ্ত হরমোন তৈরি করতে পারে না, যার ফলে দেখা দেয় হাইপোথাইরয়েডিজম, ক্লান্তি, ওজন বৃদ্ধি, মনোযোগহীনতাসহ নানা জটিলতা।
লবণ কম খেলে ঝুঁকি বাড়ে
স্বাস্থ্য সচেতনতার কারণে অনেকেই এখন লবণ কম খাওয়ার অভ্যাস করছেন। কেউ কেউ উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদরোগের ভয়ে লবণ পুরোপুরি এড়িয়ে চলেন।
কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, আয়োডিনযুক্ত লবণই শরীরে আয়োডিনের প্রধান উৎস, তাই একেবারে বাদ দিলে ঘাটতি দেখা দিতে পারে।
খাদ্য থেকে আয়োডিন পাওয়ার উপায়
১. দুগ্ধজাত পণ্য:
দুধ, দই ও চিজে প্রাকৃতিকভাবে আয়োডিন থাকে। গোরুর খাদ্য ও দুগ্ধ প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত উপাদান থেকে এই খনিজ দেহে প্রবেশ করে। লো-ফ্যাট দুধ ও দই বেছে নেওয়া ভালো।
২. মাছ ও সামুদ্রিক খাবার:
কড, টুনা, চিংড়ি, ইলিশ ও স্যামন মাছে রয়েছে প্রচুর আয়োডিন। এছাড়া এসব মাছে থাকা ওমেগা–৩ ফ্যাটি অ্যাসিড হৃদযন্ত্রের জন্যও উপকারী।
৩. ডিম:
ডিমের কুসুমে আয়োডিনের পাশাপাশি প্রোটিন ও ভিটামিন ডি থাকে, যা শরীরের শক্তি ও বিপাকক্রিয়া সচল রাখতে সাহায্য করে।
৪. আয়োডিনযুক্ত লবণ:
প্রতিদিনের খাদ্যে সামান্য পরিমাণ আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করলে দৈনিক চাহিদা পূরণ হয়। তবে অতিরিক্ত লবণ খেলে সোডিয়ামের মাত্রা বেড়ে যায়, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
৫. সি-উইড বা সামুদ্রিক শৈবাল:
সি-উইড আয়োডিনের সবচেয়ে সমৃদ্ধ উৎসগুলোর একটি। কেল্প, নরি বা ওয়াকামে জাতীয় শৈবালে প্রচুর আয়োডিন থাকে। সপ্তাহে এক–দুইবার অল্প পরিমাণে খেলেই যথেষ্ট।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
আয়োডিনের ঘাটতি পূরণে খাদ্যাভ্যাসে সচেতন পরিবর্তন আনা জরুরি। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শে আয়োডিন সাপ্লিমেন্ট নেওয়া যেতে পারে। তবে অতিরিক্ত গ্রহণ শরীরে হরমোন ভারসাম্যে সমস্যা তৈরি করতে পারে।
আধুনিক জীবনযাত্রার ব্যস্ততায় থাইরয়েডের মতো দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা এড়াতে খাদ্যতালিকায় ভারসাম্য, নিয়মিত ব্যায়াম ও পর্যাপ্ত ঘুমের বিকল্প নেই।











