বিশ্বজুড়ে খবর, এক ক্লিকেই

July 28, 2026 2:57 am
July 28, 2026 2:57 am

গাইবান্ধায় ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট শাখা থেকে গ্রাহকের ২ কোটি টাকা আত্মসাৎ

গাইবান্ধায় ইসলামী ব্যাংকের একটি এজেন্ট শাখার সাধারণ গ্রাহকের প্রায় ২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ক্যাশিয়ার সবুজ মিয়া এবং পিয়ন মাহাবুব ইসলামের বিরুদ্ধে। তারা পরস্পর যোগসাজসে তুলনামূলক কম সচেতন গ্রাহকদের টার্গেট করে দীর্ঘ সময়ে এসব টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

ঘটনাটি ঘটেছে জেলার সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপের হাটের ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট শাখায়। এই শাখাটি রংপুরের পীরগঞ্জ ইসলামী ব্যাংকের অধীনে।

সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে বিষয়টি ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন ওই শাখার অথোরিটি রংপুরের পীরগঞ্জ ইসলামী ব্যাংকের অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট কাজী মো. হাদিউল ইসলাম।

ইসলামী ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখা ও গ্রাহক সূত্রে জানা গেছে, রোববার এজেন্ট শাখায় বেশ কয়েকজন গ্রাহকদের হিসেব নম্বরে জমাকৃত মোটা অংকের টাকা না থাকার বিষয়টি সামনে আসে। এ ঘটনায় নিজের টাকার হদিস না পেয়ে গ্রাহকরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়লে মুহূর্তেই এ খবর ছড়িয়ে পড়ে। পরে অন্যান্য গ্রাহকরাও ব্যাংকে এসে একই তথ্য পান। বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হলে এক পর্যায়ে রাত ১টা পর্যন্ত এজেন্ট ব্যাংকটির অথরিটি কর্তারা গ্রাহকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বিষয়টি শেষ পর্যন্ত থানায় গড়ায়।

পীরগঞ্জ ইসলামী ব্যাংক ও শাখাটির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এজেন্ট শাখাটির ক্যাশিয়ার সবুজ মিয়া এবং পিয়ন মাহাবুব ইসলাম পরস্পর যোগসাজসে ৫২ জন গ্রাহকের প্রায় ২ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

সূত্র আরও জানায়, তারা দুজন তুলনামূলক কম সচেতন গ্রাহকদের দেখে দেখে ওই গ্রাহকরা টাকা জমা করতে আসলে বা ডিপোজিটের টাকার রশিদ দিলেও হিসেবে জমা করতেন না। একইভাবে কেউ টাকা তুলতে আসলে যে পরিমাণ টাকা গ্রাহক তুলতে চাইতেন তার কয়েকগুন বেশি তুলে আত্মসাৎ করতেন এ দুজন। এমনকি গ্রাহকের মোবাইল ফোন চেয়ে নিয়ে ম্যাসেজ ডিলেট করে দিতেন এরা। শুধু তাই নয়, গ্রাহক ফিক্সড ডিপোজিটের মুনাফাও দিতেন এ দুজন। কিন্তু মূল অ্যাকাউন্টে গ্রাহকদের টাকাই জমা করতেন না।

এসব গ্রাহক ব্যাংকে আসলেই তাদেরকে এই দুইজন সবার আগে এবং কৌশলে বিদায় করতেন। কোনো কিছু বোঝার সুযোগই ছিল না অন্যদের। এমনকি কোনো গ্রাহক রোববারের আগে কারো কাছে অভিযোগও করেনি বলে দাবি করেন এজেন্ট শাখার এজেন্ট অলিউর ও পীরগঞ্জ ইসলামী ব্যাংকের অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট কাজী মো. হাদিউল ইসলাম।

ব্যাংকটির ভুক্তভোগী গ্রাহকরা জানান, তারা অনেকেই প্রতি মাসে টাকা আমানত হিসেবে জমা রেখেছেন। ব্যাংকে জমা দেওয়া টাকার রশিদের সঙ্গে হিসেবের কোনো মিল নেই। এভাবে ব্যাংকেও যদি তাদের টাকার নিরাপদ না থাকে তাহলে কোথায় যাবেন তারা। ভুক্তভোগীরা বিষয়টি তদন্ত করে এসবের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের শাস্তি দাবি করেন। একইসঙ্গে ইসলামী ব্যাংকের মূল শাখার (পীরগঞ্জ) কোনো দায়িত্বহীনতা থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসলামী ব্যাংক ধাপেরহাট শাখার এজেন্ট অলিউর রহমান বলেন, আমার দায়িত্বপ্রাপ্ত ক্যাশিয়ার সবুজ মিয়া ও পিয়ন মাহাবুর ইসলাম বিশাল অংকের এই অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত। তারা পরস্পর যোগসাজোসে সুকৌশলে গ্রাহকের আর্থ আত্মসাতের বিষয়টি স্বীকার করেছে এবং আগামী এক মাসের মধ্যে টাকা ফেরতের প্রতিশ্রুতিতে নন জুডিশিয়াল স্টাম্পে স্বাক্ষরও করেছে তারা। ফলে সাময়িকভাবে গ্রাহকদের উদ্বেগ-ক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তারা সুচতুরভাবে এসব করেছেন, আমি বুঝতেই পারিনি। গ্রাহকরাও এর আগে কোনো অভিযোগ করেননি কারো বিরুদ্ধে।

শাখাটির অথোরিটি রংপুরের পীরগঞ্জ শাখার অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট কাজী মো. হাদিউল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, ওই শাখার এজেন্টের ক্যাশিয়ার সবুজ দীর্ঘ সময়ে গ্রাহকের এসব টাকা লুট করেন, যা ইতোমধ্যে প্রমাণ হয়েছে। গতকাল (রোববার) রাতে স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশসহ সবুজের আত্মসাৎ করা টাকা গ্রাহকদের দ্রুত সময়ের মধ্যে ফেরতের অঙ্গিকার করেছে। অভিযুক্ত সবুজ আমাদের স্টাফ না, ওই শাখা এজেন্টের স্টাফ।

তিনি আরও বলেন, আমরাও এজেন্ট অলিউরকে সতর্ক করে চিঠি দিয়েছি। এর আগেও দেওয়া হয়েছিল। যথা সময়ে গ্রাহকের টাকা ফেরত না দিলে আমরা এজেন্টের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *