ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের পর ক্ষমতায় এলে বিএনপি নতুন টেলিকম নীতিমালা পুনর্বিবেচনা করবে বলে জানিয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, “টেলিকম খাতে বিদেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন, তবে দেশীয় উদ্যোক্তাদের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করা যাবে না।”
শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে টেলিকম অ্যান্ড টেকনোলজিস রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (টিআরএনবি) আয়োজিত সেমিনারে তিনি এসব মন্তব্য করেন। সেমিনারের সভাপতিত্ব করেন টিআরএনবির সভাপতি সমীর কুমার দে।
খসরু আরও বলেন, “টেলিকম নীতিমালা একটি জটিল বিষয়। তাড়াহুড়ো করে করা ঠিক হয়নি। নির্বাচনের পর নির্বাচিত সরকার অন্তর্বর্তী সরকারের নীতিমালাসহ সব পদক্ষেপ পুনর্বিবেচনা করবে। ভবিষ্যতে এমন নীতি হবে, যেখানে দেশি-বিদেশি সকলের স্বার্থই রক্ষা পাবে।”
তিনি আশ্বস্ত করেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে আইসিটি ও টেলিকম খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। তিনি মন্তব্য করেন, “গত ১৪-১৫ বছরে টেলিকম খাতের অবস্থা ধ্বংসাত্মক হয়েছে। নীতিমালার মাধ্যমে দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তাদের মধ্যে বৈষম্য থাকা উচিত নয়। দেশীয় বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। নিরাপদ প্রযুক্তি ও সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা ছাড়া খাতের উন্নয়ন সম্ভব নয়।”
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন নীতিমালায় ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব এবং সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন। গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, “বিদেশি কোম্পানিগুলোর জবাবদিহিতা দেখতেই হবে। দেশীয় বিনিয়োগকারীদের অধিকার রক্ষা করতে হবে। বর্তমান নীতিমালা জনগণের প্রত্যাখ্যান পাবেই।”
ইন্টারনেট সেবাদাতাদের সংগঠন আইএসপিএবির সভাপতি আমিনুল হাকিম বলেন, গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত তাদের সেবা কার্যক্রম রয়েছে। এই খাতে আড়াই হাজার ব্যবসায়ীর ৪.৫ থেকে ৫ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ আছে। নতুন নীতিমালা বাস্তবায়ন হলে দেশীয় বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
সেমিনারে টেলিকম বিশেষজ্ঞ, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও খাতের অন্যান্য বিশিষ্টরা বক্তব্য রাখেন।











