ওয়াশিংটন, নিউ ইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস, শিকাগোসহ প্রায় সব অঙ্গরাজ্যেই একযোগে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন মার্কিন নাগরিকরা।
সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কর্তৃত্ববাদী নীতি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের প্রতিবাদে শনিবার লাখো মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন।
“No Kings — Only Democracy” শিরোনামে আয়োজিত এ দেশব্যাপী আন্দোলন মার্কিন রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আয়োজকদের দাবি, প্রায় ৭০ লাখ মানুষ যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে এই বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন।
“গণতন্ত্র বাঁচাও” দাবিতে প্ল্যাকার্ড হাতে তরুণ-প্রবীণ সবার অংশগ্রহণ
ওয়াশিংটন ডিসির ক্যাপিটল ভবনের সামনে, যা বর্তমানে শাটডাউনের কারণে বন্ধ, হাজারো মানুষ “Democracy Must Be Defended” ও “Step Down Trump” লেখা ব্যানার হাতে জড়ো হন।
এ সময় তারা ট্রাম্পের প্রশাসনিক নীতিকে “গণতন্ত্রের জন্য হুমকি” আখ্যা দিয়ে স্লোগান দেন।
অন্যদিকে নিউ ইয়র্ক থেকে লস অ্যাঞ্জেলেস, এমনকি ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের নিজ বাসভবনের সামনেও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
অনেক ব্যানারে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) সংস্থা বিলুপ্তির দাবিও উঠে আসে—যা ট্রাম্প আমলে অভিবাসনবিরোধী অভিযানের জন্য সমালোচিত হয়েছিল।
“আমি ভাবিনি আমার জীবদ্দশায় গণতন্ত্রকে মরতে দেখব”
নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে অংশ নেওয়া ৬৯ বছর বয়সী কলিন হফম্যান বলেন,
“আমি যুদ্ধ দেখেছি, দুর্ভিক্ষ দেখেছি—কিন্তু গণতন্ত্রের মৃত্যু দেখব, এটা কখনও ভাবিনি।”
অনেক অংশগ্রহণকারী জানান, তাদের উপস্থিতি ছিল ‘স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতীকী প্রতিবাদ’।
রিপাবলিকানদের পাল্টা প্রতিক্রিয়া
অন্যদিকে রিপাবলিকান পার্টির নেতারা এই আন্দোলনকে “আমেরিকা-বিরোধী ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে মন্তব্য করেছেন।
তাদের দাবি, “নো কিংস” আন্দোলন মূলত ট্রাম্পের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার একটি সংগঠিত প্রচেষ্টা।
তবে আয়োজকরা দাবি করেছেন, আন্দোলনটি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ছিল, এবং কোনো অঙ্গরাজ্যে বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি।
বিবিসি জানিয়েছে, কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে সতর্কতামূলকভাবে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করা হয়েছিল।
গণতন্ত্র রক্ষায় নতুন সুর
বিশ্লেষকরা বলছেন, “নো কিংস” আন্দোলন যুক্তরাষ্ট্রে গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকারের পক্ষে একটি নতুন ঢেউ তৈরি করেছে।
বিক্ষোভকারীরা বিশ্বাস করেন, এটি শুধুমাত্র ট্রাম্পের বিরুদ্ধে নয়, বরং স্বৈরতান্ত্রিক রাজনীতির বিরুদ্ধে এক নাগরিক জাগরণ।











