বিশ্বজুড়ে খবর, এক ক্লিকেই

January 16, 2026 5:03 am
January 16, 2026 5:03 am

প্রাক্তন সিআইএ কর্মকর্তার অভিযোগ: মুশাররফ পারমাণবিক নিয়ন্ত্রণ ওয়াশিংটনের কাছে হস্তান্তর করেছিলেন

প্রাক্তন সিআইএ বিশ্লেষক জন কিরিয়াকো সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন—২০০০-এর দশকে পাকিস্তানকে শাসন করা সদ্যপ্রয়াত প্রভূত প্রভাবশালী জেনারেল পারভেজ মুশাররফ দেশের পারমাণবিক সামর্থ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণের বাস্তব কীগুলো যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করেছিলেন এবং এর বিনিময়ে ওয়াশিংটন তাকে ব্যাপক আর্থিক–সামরিক সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে ‘প্রাসঙ্গিক সুবিধা’ দিয়েছে। কিরিয়াকো এসব কথা নিউজ সংস্থা এএনআই ও ইন্ডিয়া টুডিকে বলেছেন এবং তার বক্তব্যে তিনি আমেরিকার দক্ষিণ এশিয়া নীতি ও অপ্রকাশ্য কূটনীতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন।

কিরিয়াকো বলেন, মুশাররফের শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানে প্রায় প্রশ্নহীন প্রবেশাধিকার পেয়েছিল—সামরিক অভিযানে সহায়তা, নিরাপত্তা সহযোগিতা ও অর্থসাহায্যের মাধ্যমে। তার ভাষায়, “আমরা আসলে মুশাররফকে কিনে নিয়েছিলাম”—অর্থাৎ আগাম সহায়তা ও সুবিধার বিনিময়ে তিনি আমেরিকার স্বার্থপূরক লাইন মেনে চলেছেন। একই সঙ্গে কিরিয়াকো অভিযোগ করেন, মুশাররফ প্রকাশ্যপক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন করে হলেও গোপনে পাকিস্তানের সামরিক ও অনেকে হলে চরমপন্থী গ্রুপগুলোকে ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাতে অনুমতি দিয়ে দ্বৈত কৌশল অবলম্বন করেছেন।

সাক্ষাৎকারে কিরিয়াকো আরও বলেন, সৌদি আরবও পারমাণবিক বিষয় ও কুখ্যাত বিজ্ঞানী আব্দুল কাদির খানের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। তার দাবি—সৌদি প্রভাবের কারণে যুক্তরাষ্ট্র কাদেরকে নিক্ষেপ বা নির্মূল করার পন্থা থেকে বিরত থেকেছে; সৌদি পক্ষ যুক্তরাষ্ট্রকে কার্যত বলেছে, ‘আমরা কাদেরকে রক্ষা করছি’—যাতে ওই ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে কড়া পদক্ষেপ নয় নেওয়া হয়। কিরিয়াকো মনে করেন এ ধরনের আন্তর্জাতিক বিনিময় ও জটিল কূটনৈতিক আচরণই দক্ষিণ এশিয়ার শক্তির ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।

উল্লেখ্য, জন কিরিয়াকো একজন প্রাক্তন সিআইএ কর্মকর্তা—তিনি আন্দাজ করা হয় সিআইএতে প্রায় পনেরো বছর কর্মরত ছিলেন এবং সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের সঙ্গে সম্পর্কিত কাজও করেছেন। তার মন্তব্যগুলো চালেঞ্জিং ও সংবেদনশীল—এগুলো আন্তর্জাতিক কূটনীতির চরিত্র, ক্ষমতার লেনদেন ও ইতিহাস উপস্থাপনের এমন এক বর্ণনা যা করেছেন একজন সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা। তবে এ ধরনের দাবির প্রামাণ্যকরণ সময়সাপেক্ষ এবং প্রাসঙ্গিক দপ্তরগুলোর নিশ্চিতকরণ ছাড়া সরাসরি সত্য হিসেবে ধরে নেওয়া যাবে না। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডি, ANI ও কিরিয়াকোর সাক্ষাৎকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *