বিশ্বজুড়ে খবর, এক ক্লিকেই

December 1, 2025 3:48 am
December 1, 2025 3:48 am

নিউইয়র্কের প্রথম মুসলিম মেয়র জোহরান মামদানি: তরুণদের জয়, ইতিহাসের নতুন অধ্যায়

নিউইয়র্ক | যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে নতুন দিগন্ত খুলে গেল নিউইয়র্ক সিটিতে। প্রথমবারের মতো শহরটির মেয়র পদে নির্বাচিত হয়েছেন একজন মুসলিম—ডেমোক্র্যাট জোহরান মামদানি। একইসঙ্গে তিনি নিউইয়র্কের ইতিহাসে সবচেয়ে তরুণ মেয়রও বনে গেছেন।

৩৪ বছর বয়সী এই তরুণ রাজনীতিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যাপক ব্যবহার ও তরুণ প্রজন্মের সংগঠিত সমর্থনের মাধ্যমে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। তবে তার প্রার্থিতা ঘিরে ডেমোক্র্যাট শিবিরে তৈরি হয়েছিল কিছুটা বিতর্ক ও মতবিরোধ

কুয়োমোকে হারিয়ে বড় জয়

নির্বাচনে মামদানি পরাজিত করেছেন সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুয়োমোকে, যিনি একাধিক কেলেঙ্কারির কারণে চার বছর আগে পদত্যাগ করেছিলেন। রাজনৈতিকভাবে পুনরায় ঘুরে দাঁড়াতে চাইলেও মামদানির তরুণ নেতৃত্বের ঢেউয়ে হার মানতে হয়েছে অভিজ্ঞ এই রাজনীতিককে।

অন্যদিকে, সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মামদানিকে “কমিউনিস্ট” আখ্যা দিয়ে বলেন,

“তিনি মেয়র নির্বাচিত হলে শহরের জন্য বরাদ্দ অর্থ বন্ধ করে দেওয়া হবে।”

নির্বাচনের আগের রাতে ট্রাম্প রিপাবলিকান প্রার্থী কার্টিস স্লিওয়াকে পাশ কাটিয়ে কুয়োমোকে প্রকাশ্যে সমর্থন দেন, যা নিয়ে মার্কিন রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়।

ঐতিহাসিক ভোটার উপস্থিতি

নিউইয়র্ক সিটি বোর্ড অব ইলেকশন জানায়, ১৯৮৯ সালের পর এবারই প্রথম ভোটার উপস্থিতি ২০ লাখ ছাড়িয়েছে। স্থানীয় সময় সকাল ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে, যা পরিণত হয় শহরের ইতিহাসে অন্যতম প্রাণবন্ত নির্বাচনে।

ভোট শেষে বোর্ড জানায়, এবারের অংশগ্রহণ “ঐতিহাসিক মাত্রায় পৌঁছেছে”, যা তরুণ প্রজন্মের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার নতুন উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জোহরানের প্রতিক্রিয়া

যদিও এখনো প্রকাশ্যে বড় কোনো বিজয় ভাষণ দেননি মামদানি, তবে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জয়ের ইঙ্গিত দিয়েছেন

এক্স (পূর্বের টুইটার)-এ শেয়ার করা এক ভিডিওতে দেখা যায়, নিউইয়র্কের সাবওয়ে ট্রেনের দরজা খুলছে, ঘোষক বলছেন—

“পরবর্তী এবং শেষ স্টেশন হলো সিটি হল।”

কে এই জোহরান মামদানি?

উগান্ডা বংশোদ্ভূত এই মার্কিন রাজনীতিক নিউইয়র্কের অ্যাস্টোরিয়া অঞ্চলে বড় হয়েছেন। তিনি একজন ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট, দীর্ঘদিন ধরে শহরের সাশ্রয়ী বাসস্থান, স্বাস্থ্যসেবা ও প্রবাসী অধিকার নিয়ে আন্দোলন করে আসছেন।

জোহরানের এই বিজয় শুধু একজন মুসলিম প্রার্থীর নয়—এটি বৈচিত্র্য, তরুণ নেতৃত্ব ও প্রগতিশীল রাজনীতির জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *