বিশ্বজুড়ে খবর, এক ক্লিকেই

January 16, 2026 2:33 am
January 16, 2026 2:33 am

ইসলামী ব্যাংক থেকে সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যানসহ ৬৭ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড থেকে প্রায় সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের অভিযোগে এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলমসহ ৬৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থাটির ইতিহাসে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় দুর্নীতির মামলা বলে জানিয়েছে দুদক।

দুদকের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, এস আলম গ্রুপের তিন প্রতিষ্ঠান— এস আলম রিফাইনড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, এস আলম স্টিলস লিমিটেড এবং এস আলম ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেড ইসলামী ব্যাংক থেকে ৯ হাজার ২৮৩ কোটি টাকার ঋণ নেয়, যা সুদ ও লভ্যাংশসহ বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৪৭৯ কোটি ৬২ লাখ টাকা

তদন্তে অভিযোগ করা হয়েছে, এই ঋণ জালিয়াতি, প্রতারণা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয় এবং পরবর্তীতে সিঙ্গাপুরে পাচার করা হয়। ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, উপব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ মোট ৬৭ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

নিয়ন্ত্রণে আসার পরই শুরু অনিয়ম

দুদকের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে আসার পর থেকেই বিনিয়োগ কার্যক্রমে ব্যাপক অনিয়ম শুরু হয়। ২০২০ সালে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ এস আলম রিফাইনড সুগারের ঋণসীমা ২ হাজার ৪০০ কোটি থেকে বাড়িয়ে ৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকায় উন্নীত করে— যা ব্যাংকের মূলধনের ৩৫ শতাংশেরও বেশি, অর্থাৎ বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা ও ব্যাংক কোম্পানি আইন ১৯৯১ সরাসরি লঙ্ঘন করা হয়।

সফটওয়্যার ম্যানিপুলেশনের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর

তদন্তে দেখা গেছে, ইসলামী ব্যাংকের আইটি সফটওয়্যার ম্যানিপুলেশন করে অনুমোদনবিহীনভাবে ঋণসীমা বৃদ্ধি ও মেয়াদ পরিবর্তনের ঘটনা ঘটানো হয়। সাবেক উপব্যবস্থাপনা পরিচালক তাহের আহমেদ চৌধুরীর নেতৃত্বে প্রায় ৫ হাজার ৯০০ কোটি টাকা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে স্থানান্তর করা হয়।

এসব টাকা আহসান এন্টারপ্রাইজ, দুলারী এন্টারপ্রাইজ, ইউনাইটেড সুপার ট্রেডার্স ইত্যাদি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এস এস পাওয়ার, এস আলম স্টিলস, এস আলম সিমেন্ট, গ্লোবাল ট্রেডিং করপোরেশন এবং সোনালী ট্রেডার্স-এর হিসাবে স্থানান্তর করা হয়।

বিদেশে অর্থ পাচার

২০২৩ সালের ৫ ডিসেম্বর রূপালী ব্যাংকের দিলকুশা শাখা থেকে ২৯০ কোটি টাকার সমপরিমাণ (২৩.৫৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) সিঙ্গাপুরের ব্যাংক অব চায়না শাখায় এস এস পাওয়ার-১ লিমিটেডের অফশোর অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়।

অভিযুক্তদের তালিকায় শীর্ষ ব্যবসায়ী পরিবার

এই মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম, তার ভাই রাশেদুল আলম ও সহিদুল আলম, স্ত্রী ফারজানা পারভীন, ছেলে আহসানুল আলম, মেয়ে মায়মুনা খানম, ইসলামী ব্যাংকের সাবেক এমডি মো. মাহবুব উল আলম, মোহাম্মদ মনিরুল মাওলা, সাবেক চেয়ারম্যান ড. নাজমুল হাসান, এবং আরও অনেকে।

আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা

মামলাটি করা হয়েছে দণ্ডবিধির ৪০৯/৪০৬/১০৯/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১২০বি ধারা,
দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং
মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারা অনুযায়ী।

দুদক জানিয়েছে, তদন্তের পর আরও নতুন নাম এই মামলায় যুক্ত হতে পারে। ইসলামী ব্যাংকের এই আর্থিক অনিয়মকে এখন পর্যন্ত দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত করপোরেট দুর্নীতির কেলেঙ্কারি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *