জবি বন্ধ ঘোষণা: পরিস্থিতি বিবেচনায় আজ সোমবার থেকে আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সব ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ৩০ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস চলবে অনলাইনে। গতকাল দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সভাপতিত্বে জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হল আজ থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। শিক্ষার্থীদের আজ সকাল ১০টার মধ্যে হল ত্যাগ করতে হবে।
আকাশের নিচে ইডেনের শিক্ষার্থীরা: রাজধানীর ইডেন মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভূমিকম্পে কলেজের হাসনা বেগম ছাত্রীনিবাসের দেয়ালে ফাটল ও ছাদের প্লাস্টার খসে পড়ার ঘটনায় ভবনের ভেতর অবস্থান নিরাপদ কি না—এ নিয়ে উদ্বেগ কাটেনি শিক্ষার্থীদের। গত শনিবার দ্বিতীয় দিনের মতো সন্ধ্যার ভূমিকম্পের পর ভবনের ক্ষতি চোখে পড়ার মতো বাড়তে থাকে। ফলে রাত ১২টার দিকে অনেক শিক্ষার্থী হলকক্ষ ছেড়ে খোলা আকাশের নিচে নেমে আসেন। এ সময় নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ তুলে তাঁরা বিক্ষোভও করেন। বর্তমানে অনেকে নিকটাত্মীয়ের বাসায় আছেন। কেউ কেউ নিজ বাড়িতে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
নরসিংদীতে মধ্যরাতে ঘরের বাইরে মানুষজন : গত শুক্রবার সকাল থেকে গত শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সাড়ে ৩১ ঘণ্টায় দফায় দফায় ভূমিকম্পে নরসিংদী জেলাজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। সর্বশেষ গত শনিবার সন্ধ্যা ৬টা ৬ মিনিটে কয়েক সেকেন্ডের ভূমিকম্প অনুভূত হলে মানুষের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা আরো বেড়ে যায়। এর পরই ভূমিকম্প সচেতনতামূলক মাইকিং শুরু করে জেলা প্রশাসন। শনিবার রাত ১২টা থেকে ১টার মধ্যে ফের বড় ধরনের শক্তিশালী ভূমিকম্প হতে পারে- এ গুজব ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষ আরো আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। অনেকে ঘরবাড়ি ছেড়ে সড়ক ও খোলা মাঠে অবস্থান নেয়।
আগামী বুধবার বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) একটি বিশেষজ্ঞ দল নরসিংদীতে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলো পরিদর্শন করার পর ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ জানা যাবে।
গতকাল দুপুরে ভূমিকম্প ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিষয়ে নরসিংদী জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির এক সভা শেষে এসব তথ্য জানান জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন। জেলা প্রশাসক বলেন, ‘নরসিংদীতে ক্ষতিগ্রস্ত বহুতল ভবনগুলো বিল্ডিং কোড মেনে নির্মাণ করা হয়েছে কি না তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এ ছাড়া ভবিষ্যতে ভূমিকম্পসহ সব প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় সবাই যেন বিল্ডিং কোড মেনে ভবন নির্মাণ করেন সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে। যেহেতু ভূমিকম্পের কোনো পূর্বাভাস হয় না, তাই কাউকে আতঙ্কিত হওয়া যাবে না।’
শহরের ব্যাংক কলোনি এলাকার বাসিন্দা মাহফুজা বেগম বলেন, ‘গত শনিবার রাতটা পার করেছি আতঙ্কের মধ্যে। স্বামী পেশাগত কাজে জেলার বাইরে। বড় মেয়ে বিদ্যালয়ের হলে। আট বছরের ছোট মেয়ে ও চার বছরের ছেলেকে নিয়ে সড়কের পাশে বসে রাত পার করেছি।’ পলাশের কাঁচা সড়কে ফাটল দেখা দেওয়া পলাশ রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা শাকিল আহমেদ বলেন, ‘শুক্রবারের ভূমিকম্পের পর থেকে এখনো আমরা আতঙ্কে আছি। ঘটনার কথা মনে হলেই বুক ধড়ফড় করে। আতঙ্কে রাতে বাচ্চাদের নিয়ে ঘুমাতে পারছি না।’











