বিশ্বজুড়ে খবর, এক ক্লিকেই

January 16, 2026 12:56 am
January 16, 2026 12:56 am

ভূমিকম্প আতঙ্কে ঢাবি ও জবি বন্ধ

গত শুক্রবার ও শনিবার চার দফা ভূমিকম্পের পর ঢাকাসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলাবাসী আতঙ্কের সঙ্গে বসবাস করছেন। ভূমিকম্পে বিভিন্ন ভবনে ফাটল দেখা দেওয়াছাড়াও উদ্ভুত পরিস্থিতি বিবেচনায় ঢাকায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আগামী ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত বন্ধ থাকছে। স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।

আজ সোমবার থেকে আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসারে, গতকাল রবিবার বিকেল ৫টার মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা হল ছেড়ে চলে যান। গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের গেট প্রাঙ্গণে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীরা ব্যাগ গুছিয়ে হল থেকে বের হচ্ছেন। বিভাগীয় শহরগুলোতে শিক্ষার্থীদের পৌঁছে দিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ডাকসুর উদ্যোগে বাসের ব্যবস্থা করা হয়।
ডাকসুর ছাত্র পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ বলেন, শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে ডাকসুর উদ্যোগে বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে যাওয়ার জন্য মোট ৯টি বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে বিআরটিসির সঙ্গে সমন্বয় করে। বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে যাওয়ার সময় শিক্ষার্থীদের চোখে-মুখে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দেখা গেছে। শিক্ষার্থীরা বলছেন, ১৫ দিন পরে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো একেবারে ভূমিকম্পরোধক হয়ে যাবে এ বিষয়ে তাঁরা সন্দিহান। তাই পরবর্তী সময়ে আবার বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দিলেও ভূমিকম্প আতঙ্ক নিয়েই তাঁদের হলে ফিরতে হবে।
আবার অনেক শিক্ষার্থী সেশনজটের আশঙ্কাও করছেন। শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের শিক্ষার্থী মুস্তাকিম বলেন, ‘আমাদের হলের ভবনগুলো অনেক পুরনো। ভূমিকম্পের পর বিভিন্ন রুমের পলেস্তারা খসে পড়েছে এবং দু-এক জায়গায় ফাটলও দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হওয়ায় বাড়ি ফিরে যাচ্ছি। তবে আগামী ১ জানুয়ারি থেকে আমাদের পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল।
এখন বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঠিক সময়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে কি না এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।’শিক্ষার্থীরা যাতে সেশনজটে না পড়েন সেজন্য অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার দাবি জানিয়েছে ডাকসু। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পর দ্রুত সময়ের মধ্যে স্থগিত হওয়া পরীক্ষাগুলো নেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন ডাকসু সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ।

জবি বন্ধ ঘোষণা: পরিস্থিতি বিবেচনায় আজ সোমবার থেকে আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সব ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ৩০ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস চলবে অনলাইনে। গতকাল দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সভাপতিত্বে জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হল আজ থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। শিক্ষার্থীদের আজ সকাল ১০টার মধ্যে হল ত্যাগ করতে হবে।

আকাশের নিচে ইডেনের শিক্ষার্থীরা: রাজধানীর ইডেন মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভূমিকম্পে কলেজের হাসনা বেগম ছাত্রীনিবাসের দেয়ালে ফাটল ও ছাদের প্লাস্টার খসে পড়ার ঘটনায় ভবনের ভেতর অবস্থান নিরাপদ কি না—এ নিয়ে উদ্বেগ কাটেনি শিক্ষার্থীদের। গত শনিবার দ্বিতীয় দিনের মতো সন্ধ্যার ভূমিকম্পের পর ভবনের ক্ষতি চোখে পড়ার মতো বাড়তে থাকে। ফলে রাত ১২টার দিকে অনেক শিক্ষার্থী হলকক্ষ ছেড়ে খোলা আকাশের নিচে নেমে আসেন। এ সময় নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ তুলে তাঁরা বিক্ষোভও করেন। বর্তমানে অনেকে নিকটাত্মীয়ের বাসায় আছেন। কেউ কেউ নিজ বাড়িতে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

নরসিংদীতে মধ্যরাতে ঘরের বাইরে মানুষজন : গত শুক্রবার সকাল থেকে গত শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সাড়ে ৩১ ঘণ্টায় দফায় দফায় ভূমিকম্পে নরসিংদী জেলাজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। সর্বশেষ গত শনিবার সন্ধ্যা ৬টা ৬ মিনিটে কয়েক সেকেন্ডের ভূমিকম্প অনুভূত হলে মানুষের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা আরো বেড়ে যায়। এর পরই ভূমিকম্প সচেতনতামূলক মাইকিং শুরু করে জেলা প্রশাসন। শনিবার রাত ১২টা থেকে ১টার মধ্যে ফের বড় ধরনের শক্তিশালী ভূমিকম্প হতে পারে- এ গুজব ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষ আরো আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। অনেকে ঘরবাড়ি ছেড়ে সড়ক ও খোলা মাঠে অবস্থান নেয়।

আগামী বুধবার বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) একটি বিশেষজ্ঞ দল নরসিংদীতে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলো পরিদর্শন করার পর ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ জানা যাবে।

গতকাল দুপুরে ভূমিকম্প ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিষয়ে নরসিংদী জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির এক সভা শেষে এসব তথ্য জানান জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন। জেলা প্রশাসক বলেন, ‘নরসিংদীতে ক্ষতিগ্রস্ত বহুতল ভবনগুলো বিল্ডিং কোড মেনে নির্মাণ করা হয়েছে কি না তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এ ছাড়া ভবিষ্যতে ভূমিকম্পসহ সব প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় সবাই যেন বিল্ডিং কোড মেনে ভবন নির্মাণ করেন সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে। যেহেতু ভূমিকম্পের কোনো পূর্বাভাস হয় না, তাই কাউকে আতঙ্কিত হওয়া যাবে না।’

শহরের ব্যাংক কলোনি এলাকার বাসিন্দা মাহফুজা বেগম বলেন, ‘গত শনিবার রাতটা পার করেছি আতঙ্কের মধ্যে। স্বামী পেশাগত কাজে জেলার বাইরে। বড় মেয়ে বিদ্যালয়ের হলে। আট বছরের ছোট মেয়ে ও চার বছরের ছেলেকে নিয়ে সড়কের পাশে বসে রাত পার করেছি।’ পলাশের কাঁচা সড়কে ফাটল দেখা দেওয়া পলাশ রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা শাকিল আহমেদ বলেন, ‘শুক্রবারের ভূমিকম্পের পর থেকে এখনো আমরা আতঙ্কে আছি। ঘটনার কথা মনে হলেই বুক ধড়ফড় করে। আতঙ্কে রাতে বাচ্চাদের নিয়ে ঘুমাতে পারছি না।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *