এই হত্যাকাণ্ডের দায়ে তখনকার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ (বরখাস্ত) ও পরিদর্শক লিয়াকত আলীকে (বরখাস্ত) মৃত্যুদণ্ড আর ছয় জনকে যাবজ্জীবন দিয়েছিলেন কক্সবাজারের আদালত।
তখন লিয়াকত আলী ‘শ্যুট শ্যুট’ বলে সিনহাকে দুই রাউন্ড গুলি করেন। দুই হাত উঁচু করেই সামনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। তখন লিয়াকত আলী এগিয়ে এসে আবার দুই রাউন্ড গুলি করলে সিনহা ওপুর হয়ে পড়ে যান। এ অবস্থায় পিছমোরা করে হাতকড়া পরানো হয়। এক পর্যায়ে লিয়াকত আলীর কাছে সিনহা পানি চাইলে গালি দিয়ে সিনহার কোমরে লাথি মারেন লিয়াকত। এর কিছুক্ষণ পর ঘটনাস্থলে আসেন ওসি প্রদীপ কুমার দাশ। উপুর হয়ে পড়ে থাকা মরণাপন্ন সিনহার কাছে গিয়ে প্রদীপ তখন বলেন, ‘অনেক টার্গেট করে তোকে মেরেছি’। ওসি প্রদীপ পা দিয়ে সিনহার শরীরে নাড়া দিলে সিনহা তখন প্রদীপের কাছে পানি চান। অকথ্য ভাষায় গালি দিয়ে প্রদীপ তখন সিনহার বাঁ বুকে কয়েকটি লাথি মারেন এবং বুট জুতা দিয়ে তাঁর গলার বাঁ দিকে চেপে ধরেন। তখন সিনহার শরীর কাঁপতে কাঁপতে এক পর্যায়ে নিস্তেজ হয়ে যান। এভাবেই ওসি প্রদীপ মেজর সিনহার মৃত্যু নিশ্চিত করেছিল বলে ঘটনার বর্ণনায় উল্লেখ করেছেনে হাইকোর্ট।
এ ঘটনায় সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস ২০২০ সালের ৫ আগস্ট বাদী হয়ে কক্সবাজার আদালতে টেকনাফের বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক লিয়াকত আলীকে প্রধান করে নয় পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। মামলায় টেকনাফ মডেল থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশকে করা হয় দুই নম্বর আসামি। এ মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় র্যাবকে। ২০২০ সালের ১৩ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. খাইরুল ইসলাম ওসি প্রদীপসহ ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। একই দিন পুলিশের দায়ের করা মামলা তিনটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। ২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। রায়ে বরখাস্ত ওসি প্রদীপ ও এসআই লিয়াকতকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। আর ছয় আসামিকে দেওয়া হয়েছিল যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। সেই রায়ই বহাল রেখে গত ২ জুন রায় দেন উচ্চ আদালত।











