সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগামী মঙ্গলবার থেকে শুরু হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ও আয়ারল্যান্ডের মধ্যকার টেস্ট সিরিজ। সিরিজ শুরুর আগে রোববার দুপুরে ঐতিহ্যবাহী কিনব্রিজ এলাকায় জমকালো আয়োজনে উন্মোচিত হলো সিরিজের ট্রফি।
বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত এবং আয়ারল্যান্ডের অধিনায়ক অ্যান্ড্রু বার্লবির্নি যখন ট্রফি হাতে পোজ দেন, তাদের পেছনে দৃশ্যমান ছিল লাল রঙের সেই ‘কিনব্রিজ’— যে সেতুটি স্যার মাইকেল কিনের নামে নামকরণ করা, আর সেই কিনই আবার আয়ারল্যান্ডের নাগরিক।
ঐতিহ্যবাহী স্থানে রঙিন আয়োজন
দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সিলেট নগরের কিনব্রিজ সংলগ্ন আলী আমজদের ঘড়িঘরের সামনে বিসিবির আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় ট্রফি উন্মোচন অনুষ্ঠান। উপস্থিত ছিলেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমসহ বিসিবির উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের যৌথ উদ্যোগে দেশের ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থানে ট্রফি উন্মোচনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখছে ক্রিকেট কর্তৃপক্ষ।
আগেও কিনব্রিজে ট্রফি উন্মোচন
এর আগে ২০২৪ সালে একই স্থানে বাংলাদেশ ও ভারতের নারী দলের মধ্যকার পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের ট্রফি উন্মোচন হয়েছিল। সেদিন বাংলাদেশের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি ও ভারতের হারমানপ্রীত কৌর একসঙ্গে ট্রফি উন্মোচন করেন।
স্যার মাইকেল কিন: ইতিহাসের সঙ্গে জড়ানো নাম
কিনব্রিজের নাম যাঁর নামে, সেই স্যার মাইকেল কিনের জন্ম আয়ারল্যান্ডের লিস্টোয়েলের ব্যারাডাফে ১৮৭৪ সালে। ছাত্রজীবনে তিনি রাগবি ও ক্রিকেট দু’টো খেলাতেই ছিলেন সক্রিয়। পরবর্তীতে তিনি ব্রিটিশ ভারতের সিভিল সার্ভিসে যোগ দেন।
১৯৩২ সালে তিনি আসামের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং একই বছর ‘নাইট’ উপাধিতে ভূষিত হন। তার মেয়াদকালেই সুরমা নদীর ওপর নির্মিত হয় লৌহ কাঠামোর ঐতিহাসিক ‘কিনব্রিজ’। সিলেটের প্রবেশদ্বার হিসেবে বিবেচিত এই সেতুটি এখন শুধু স্থাপত্য নয়, ঐতিহ্যের প্রতীকও।
স্যার মাইকেল কিন ১৯৩৭ সালে অবসর গ্রহণের পর যুক্তরাজ্যের নরফোকে নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।










