মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও দক্ষ বিদেশি কর্মীদের যুক্তরাষ্ট্রে রাখার পক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন। ফক্স নিউজে সম্প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে কিছু নির্দিষ্ট খাতে প্রয়োজনীয় প্রতিভার অভাব রয়েছে, যা শিল্প ও প্রযুক্তি খাতে প্রভাব ফেলছে। এই কারণেই তিনি এইচ–১বি ভিসা কর্মসূচিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন।
সাক্ষাৎকারে উপস্থাপক লরা ইনগ্রাহাম প্রশ্ন করেন, প্রশাসন কি এইচ–১বি ভিসার সংখ্যা কমানোর চিন্তা করছে—যেহেতু এতে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমতে পারে? উত্তরে ট্রাম্প বলেন, “আমি বুঝি তোমার কথা, কিন্তু বাস্তবতা হলো, আমাদের এমন কিছু প্রতিভা আনতেই হবে যা এখানে নেই।”
ট্রাম্পের মতে, দেশীয় বেকারদের নিয়োগ দিয়ে সব সমস্যার সমাধান হয় না। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, “তুমি যাকে-তাকে এনে মিসাইল তৈরি শেখাতে পারবে না। কিছু কাজ আছে, যা বছরের পর বছর অভিজ্ঞতা দাবি করে।”
জর্জিয়ার হুন্দাই কারখানায় আইসিই অভিযানের প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বলেন, “সেখানে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আসা দক্ষ লোকজন ছিলেন, যারা বহু বছর ধরে ব্যাটারি তৈরি করতেন। তাদের ফেরত পাঠানো হয়েছে—যখন এই দক্ষতাগুলোই আমাদের সবচেয়ে দরকার।”
উল্লেখ্য, গত সেপ্টেম্বর ট্রাম্প প্রশাসন একটি নির্বাহী আদেশে এইচ–১বি ভিসার আবেদন ফি এক লাখ ডলার পর্যন্ত বাড়ায়। এটি ছিল তার অভিবাসন নীতির অংশ, যা বিদেশি কর্মীদের ওপর নতুন সীমাবদ্ধতা আরোপের উদ্দেশ্যে গৃহীত হয়।
এইচ–১বি ভিসা সাধারণত তিন বছরের জন্য দেওয়া হয়, এবং একই মেয়াদে পুনর্নবায়নযোগ্য। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি মার্কিন প্রযুক্তি ও গবেষণাখাতে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখতে সহায়তা করে।
একই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভূমিকা নিয়েও মন্তব্য করেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে চীনা শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিয়ে আলোচনার সময় তিনি বলেন, “বিদেশি শিক্ষার্থীদের থাকা ভালো। তারা বিশ্বমানের গবেষণা ও উদ্ভাবনে অবদান রাখে।” তবে ইনগ্রাহাম পাল্টা বলেন, “চীনা শিক্ষার্থীরা আমাদের মেধাস্বত্ব চুরি করছে।” জবাবে ট্রাম্প হেসে বলেন, “তুমি কি মনে করো, ফরাসিরা খুব ভালো?”
তার এই মন্তব্য আবারও ইঙ্গিত দেয়, কঠোর অভিবাসন নীতির মাঝেও দক্ষ জনশক্তি ও বৈশ্বিক শিক্ষার্থীদের প্রতি ট্রাম্পের দৃষ্টিভঙ্গি কিছুটা নরম—বিশেষত সেসব ক্ষেত্রে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র নিজেই দক্ষতার ঘাটতিতে ভুগছে।











