আজ সোমবার (১৭ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কার্যক্রম শুরু হয়। ৪৫৩ পৃষ্ঠার এই রায়ে ছয়টি অংশ রয়েছে।
রায়ে ট্রাইব্যুনাল বলেছেন, শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির অপরাধ প্রমাণিত। দুটি অভিযোগে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একটি অভিযোগে আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অ্যাপ্রুভার (রাজসাক্ষী) হওয়ায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল–মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান। এর মধ্য দিয়ে হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছরের শাসনের অবসান ঘটে।
ট্রাইব্যুনাল-১–এর এজলাস থেকে রায় ঘোষণার কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। গণ-অভ্যুত্থানের সময় হত্যাকাণ্ডসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় করা এটিই প্রথম মামলা, যার রায় আজ ঘোষণা করা হলো। একই সঙ্গে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো প্রধানমন্ত্রী মানবতাবিরোধী অপরাধে বিচার শেষে সাজার মুখোমুখি হয়েছেন।
এক নজরে হাসিনার মামলার বিচারকাজ
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করতে ২০২৪ সালের অক্টোবরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। নিয়োগ দেওয়া হয় তিন বিচারপতি, প্রসিকিউশন টিম ও তদন্ত সংস্থা। শুরু থেকেই তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন শেখ হাসিনা।
পরে ১ জুন পলাতক শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক চার্জশিট দেয় প্রসিকিউশন। তাদের বিরুদ্ধে মারণাস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশসহ পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়। সেদিনই দেশের ইতিহাসে প্রথমবার আদালতের কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচার হয়।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও গণবিজ্ঞপ্তি জারির পরও আত্মসমর্পণ না করায় পলাতক হাসিনা ও আসাদুজ্জামানের পক্ষে আমির হুসেনকে আইনজীবী নিয়োগ করে ট্রাইব্যুনাল।
১০ জুলাই আদালত তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে। একই দিনে সাবেক আইজিপি মামুন নিজের দায় স্বীকার করে রাজসাক্ষী হওয়ার আবেদন করেন। ৩ আগস্ট শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ। শহীদ পরিবারের সদস্য, আহত, চিকিৎসক, সমন্বয়ক, পুলিশ কর্মকর্তা, সাংবাদিক, গবেষক ও তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ৫৪ জন সাক্ষ্য দেন। ২৮ কার্যদিবসের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয় ৮ অক্টোবর।
২৩ অক্টোবর যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার মধ্য দিয়ে সব বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
১৩ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তুজা ঘোষণা করেন—রায় দেওয়া হবে ১৭ নভেম্বর। আন্দোলনকারীদের হত্যার নির্দেশ, উস্কানি ও প্ররোচনাসহ পাঁচটি অভিযোগ প্রমাণে প্রসিকিউশন জমা দিয়েছে ৮,৭৪৭ পৃষ্ঠার প্রমাণ। আলামতের মধ্যে রয়েছে ৬৯টি অডিও ক্লিপ, তিনটি মোবাইল নম্বরের সিডিআর এবং হত্যাকাণ্ডের ১৭টি ভিডিও।











