ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদির ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। এ ঘটনার কঠোর নিন্দা জানিয়ে দেশব্যাপী বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি।
শুক্রবার বিকেলে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত ‘রাষ্ট্র গড়ার পরিকল্পনা’ আলোচনা সভায় দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, হাদির ওপর হামলা এক সুপরিকল্পিত নীলনকশার অংশ। তিনি বলেন, অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবিতে শনিবার ঢাকাসহ সারা দেশে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনসমূহ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে।
এদিকে হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। প্রেস উইংয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুত তদন্ত করে হামলাকারীদের শনাক্ত করতে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি ঘটনাস্থলের সব ধরনের আলামত সংগ্রহ, সাক্ষ্য গ্রহণ ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনারও নির্দেশ দেন তিনি।
প্রধান উপদেষ্টা মন্তব্য করেন, নির্বাচনী পরিস্থিতিতে এমন সহিংসতা বরদাশতযোগ্য নয়। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ রাখতে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করতে হবে, আর দোষীরা যে-ই হোক, আইনের বাইরে কেউ নয়।
হাদির চিকিৎসা নিয়েও সরাসরি নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তার সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।
ঢামেক জরুরি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মোশকাত আহমেদ জানান, মাথায় গুলিবিদ্ধ হওয়ায় ওসমান বিন হাদির অবস্থা আশঙ্কাজনক। তিনি বর্তমানে কোমায় রয়েছেন এবং চিকিৎসকেরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন।
সংঘাতপূর্ণ এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পরিবেশ আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন মহল শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সব পক্ষকে সংযম ও সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে।











