শীত এলেই বাঙালির রান্নাঘরে পিঠা-পুলির আয়োজন যেন এক অবিচ্ছেদ্য উৎসব। ভাপা, চিতইয়ের সঙ্গে সঙ্গে পাটিসাপটা পিঠা শীতের টেবিলে আলাদা গুরুত্ব পায়। সাধারণত এই পিঠা বানাতে চালের গুঁড়াই মূল ভরসা, কিন্তু ব্যস্ত জীবনে চাল ভিজিয়ে গুঁড়া করার ঝামেলা অনেকের জন্যই সময়সাপেক্ষ। সে কারণেই অনেকেই ইচ্ছা থাকলেও পাটিসাপটা বানানো এড়িয়ে যান।
কিন্তু চাইলে চালের গুঁড়া ছাড়াও খুব সহজে ঘরে তৈরি করা যায় মোলায়েম ও সুস্বাদু পাটিসাপটা। ময়দা আর সুজির সংমিশ্রণে বানানো এই পিঠা শুধু বানানোই সহজ নয়, ঠাণ্ডা হলেও থাকে নরম। স্বাদেও কোনো অংশে কম নয় ঐতিহ্যবাহী পাটিসাপটার থেকে।
এই রেসিপিতে প্রয়োজন হবে ঘরোয়া কিছু উপকরণই। ময়দা দুই কাপ, মিহি সুজি এক কাপ, এক চিমটি লবণ, স্বাদ অনুযায়ী চিনি বা গুড় এবং ব্যাটার বানানোর জন্য পরিমাণমতো দুধ। পুরের জন্য রাখা যেতে পারে ক্ষীর, নারকেল কোরা ও গুড়ের মিশ্রণ কিংবা নরম পাকের সন্দেশ—যেটা হাতের কাছে থাকে।
প্রথমে একটি বড় পাত্রে ময়দা, সুজি ও লবণ ভালো করে মিশিয়ে নিতে হবে। এরপর অল্প অল্প করে হালকা গরম দুধ যোগ করে মসৃণ ব্যাটার তৈরি করতে হবে, যেন কোনো দলা না থাকে। মিষ্টি স্বাদের জন্য ব্যাটারে সামান্য চিনি বা নলেন গুড় মেশানো যেতে পারে। চালের গুঁড়া না থাকায় এখানে সুজিকে ভিজিয়ে রাখা খুব গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাটারটি ঢেকে অন্তত আধা ঘণ্টা রেখে দিলে সুজি ফুলে উঠবে এবং পিঠা হবে নরম।
এই সময়ের মধ্যেই পুর তৈরি করে নেওয়া যায়। নারকেল ও গুড়ের পুর বা ক্ষীর ঘন করে রান্না করে রাখা যেতে পারে। সময় কম থাকলে দোকান থেকে কেনা নরম সন্দেশও ভালো বিকল্প।
পিঠা বানাতে একটি নন-স্টিক প্যান মাঝারি আঁচে গরম করে সামান্য ঘি বা তেল ব্রাশ করতে হবে। প্যান গরম হলে এক হাতা ব্যাটার ঢেলে চারদিকে ছড়িয়ে দিন। ওপরের অংশ সেট হয়ে এলে এক পাশে পছন্দের পুর দিয়ে সাবধানে রোল করে নিন। সব পিঠা একইভাবে তৈরি করে নিলেই পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত।
রান্নাবিশেষজ্ঞদের মতে, চালের গুঁড়ার পাটিসাপটা অনেক সময় ঠাণ্ডা হলে শক্ত হয়ে যায়। কিন্তু ময়দা-সুজির এই রেসিপিতে পিঠা দীর্ঘ সময় নরম থাকে এবং প্যানে লেগে যাওয়ার ঝুঁকিও কম। ব্যাটার বেশি ঘন হলে ভাজার আগে সামান্য দুধ মিশিয়ে পাতলা করে নেওয়া যায়। সব সময় আঁচ কম বা মাঝারি রাখলে পিঠা সুন্দর রঙে ও নিখুঁতভাবে তৈরি হবে।











