বিশ্বজুড়ে খবর, এক ক্লিকেই

February 4, 2026 8:33 am
February 4, 2026 8:33 am

সেই সিরিয়াল কিলার ‘সম্রাট’ আসলে লৌহজংয়ের সবুজ শেখ

ঢাকার সাভারে একের পর এক হত্যাকাণ্ড ও মরদেহ আগুনে পোড়ানোর ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ‘সিরিয়াল কিলার’-এর প্রকৃত পরিচয় উদ্ঘাটনের কথা জানিয়েছে পুলিশ। ভবঘুরের বেশে থেকে ছয়জনকে হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে আটক ব্যক্তি নিজের নাম ‘মশিউর রহমান খান সম্রাট’ দাবি করলেও তদন্তে জানা গেছে, তার প্রকৃত নাম সবুজ শেখ। সে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং থানার মোসামান্দা গ্রামের পান্না শেখের ছেলে। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা জেলা পুলিশের সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত সুপার মো. আসাদুজ্জামান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, সবুজ শেখ অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে নিজের নামপরিচয় গোপন রাখত। সে মূলত ভবঘুরে নারীদের টার্গেট করে শারীরিক সম্পর্কের ফাঁদ পেতে সাভারের বিভিন্ন পরিত্যক্ত ও নির্জন ভবনে নিয়ে যেত। সবুজের দাবি, ওইসব নারী যদি তার সঙ্গে ছাড়া অন্য কারও সঙ্গে ‘অনৈতিক’ কাজে লিপ্ত হতো, তাহলে সে ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের হত্যা করত। তার এমন স্বীকারোক্তির সত্যতা যাচাই-বাছাই করছে পুলিশ।

সবুজ শেখের স্বীকারোক্তির বরাতে সর্বশেষ হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে পুলিশ জানায়, গত শনিবার রাতে সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনে তানিয়া ওরফে সোনিয়া নামে এক তরুণী এবং অন্য এক যুবককে নৃশংসভাবে হত্যা করে সবুজ। ওই যুবক তরুণীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক করায় প্রথমে তাকে ভবনটির দ্বিতীয় তলায় নিয়ে খুন করা হয়। পরে নিচতলায় এসে তানিয়াকে হত্যার পর লাশ কাঁধে করে নিয়ে যায় দ্বিতীয় তলায়। আর হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ মুছে ফেলতে দুটি লাশ একসঙ্গে টয়লেটে ঢুকিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় সবুজ। নিহতদের মধ্যে তানিয়া আক্তার সনিয়া রাজধানীর উত্তরার বাসিন্দা জসিম উদ্দিনের মেয়ে। ওই তরুণী শারীরিক প্রতিবন্ধী ছিলেন।

প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া তথ্যের কথা উল্লেখ করে তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘সবুজ শেখের খুনের নেশা শুরু হয় গত বছরের ৪ জুলাই। সেদিন সাভার মডেল মসজিদের সামনে আসমা বেগম নামে এক বৃদ্ধাকে গলা টিপে হত্যার মাধ্যমে তার হত্যাকাণ্ডে হাতেখড়ি হয়। এরপর গত ২৯ আগস্ট পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনে এক যুবককে হত্যার পর মরদেহ পুড়িয়ে দেয় সবুজ। ১১ অক্টোবর একই ভবনে হত্যা করে আরও এক নারীকে। ১৯ ডিসেম্বর একই জায়গায় হত্যা করে আরেক যুবককে। সর্বশেষ গত শনিবার রাতে এক তরুণীসহ দুজনকে হত্যার পর মরদেহে আগুন ধরিয়ে দেয়।’

গত ১৮ জানুয়ারি সাভার থানার সামনে থেকে সবুজকে আটক করে পুলিশ। পরে গত সোমবার ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে সে ছয়টি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আদালত জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

সাভার মডেল থানার পরিদর্শক হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘সবুজ শেখ ২০২৪ সাল থেকে সাভার মডেল মসজিদ এলাকা ও পরে সাভার মডেল থানার আশপাশে ভবঘুরের বেশে অবস্থান করছিল। তদন্তে তার প্রকৃত পরিচয় বেরিয়ে এসেছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে সম্রাট ওরফে সবুজ শেখকে শনাক্ত করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *