বিশ্বজুড়ে খবর, এক ক্লিকেই

August 15, 2026 4:28 am
August 15, 2026 4:28 am

কেমন ছিল ফারিয়ার ৪৮ ঘণ্টার হাজতবাস?

গ্রেপ্তার, হাতকড়া আর কারাগারের নিঃসঙ্গতা, সব মিলিয়ে জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়ের মুখোমুখি হয়েছিলেন ঢালিউড চিত্রনায়িকা নুসরাত ফারিয়া। কারাবাসের পর অবশেষে সেই না-বলা অধ্যায়ের পর্দা তুললেন তিনি। সম্প্রতি এক পডকাস্টে বিমানবন্দর থেকে নাটকীয় গ্রেপ্তার ও ৪৮ ঘণ্টার জেলজীবন কীভাবে তার চারপাশের মানুষদের আসল চেহারা চিনিয়ে দিয়েছে- এবার সে অভিজ্ঞতার কথাই তুলে ধরলেন এই সুন্দরী।

প্রকাশিত সেই পডকাস্টে ফারিয়া বলেন, গানের শুটিংয়ের জন্য থাইল্যান্ড যাচ্ছিলাম। ইমিগ্রেশনে যাওয়ার আগ পর্যন্ত ভাবিনি এমন কিছু হতে পারে। পুলিশ যখন আমাকে আটকে দিল, আমি ভেবেছিলাম হয়তো কোনো ভুল হচ্ছে। কিন্তু তারা যখন আমাকে ডিটেনশন রুমে নিয়ে গেল, তখন বুঝতে পারলাম আমি গ্রেপ্তার হতে যাচ্ছি। মুহূর্তের মধ্যে আমার পৃথিবীটা যেন থমকে গিয়েছিল।

কারাগার থেকে বের হওয়ার পরের অভিজ্ঞতা জানিয়ে নুসরাত ফারিয়া বলেন, জেলে কাটানো মাত্র দুই দিনেই তিনি জীবনের বড় শিক্ষা পেয়েছেন। সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি ছিল তার চারপাশের মানুষদের আচরণে।

এই ঘটনার পর সবচেয়ে কাছের বন্ধুরাও সামাজিক মাধ্যম থেকে তার সঙ্গে থাকা ছবি সরিয়ে ফেলেন। যেন তারা স্পষ্ট করে দিতে চান, এই মুহূর্তে তার সঙ্গে কোনোভাবে যুক্ত থাকতে চান না। অনেকে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন, কারণ তিনি তখন ঝামেলায় ছিলেন। নুসরাত ফারিয়ার ভাষ্য, এই মাত্র ৪৮ ঘণ্টাই আমাকে বুঝিয়ে দিয়েছে কে আমার আপন, আর কে নয়।

ফারিয়া বলেন, যাদের জন্য বছরের পর বছর নিঃস্বার্থভাবে সবকিছু উজাড় করে দিয়েছি, সেই মানুষগুলোর অস্তিত্বও নতুন করে চিনেছি। আজ তারা ফিরতে চাইলেও তাদের গ্রহণ করা সম্ভব হবে না। সম্পর্ক, বন্ধুত্ব, আত্মীয়তা- সবখানেই বড় পরিবর্তন দেখেছি।

তবে কিছু মানুষও পেয়েছেন এই ঘটনার পর, যাদের জন্য আপ্লুত এই অভিনেত্রী। ফারিয়া বলেন, এই ঘটনাটার পর যাদের সঙ্গেই আমার দেখা হয়েছে, বয়স্ক মানুষ থেকে শুরু করে বাচ্চা পর্যন্ত- সবার চোখেই আমি সেই দৃষ্টি দেখেছি। যেন তারা বলতে চেয়েছে, আমরা তোমার জন্য দোয়া করেছিলাম, আমরা চাইছিলাম তুমি ফিরে আস। আমরা বুঝতে পেরেছিলাম, সবকিছু ভুল দিকে যাচ্ছে।

উপস্থাপকের প্রশ্নের জবাবে নুসরাত ফারিয়া জানান, এক দিন, এক দিন এক রাত আমাকে জেলে থাকতে হয়েছিল। সেখানে সময় কাটানোর অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ইভেন ইনসাইড দেম… জেলের ভেতরে জেলার থেকে শুরু করে সবাই যে সহানুভূতি আর ভালোবাসা দিয়ে আমাকে ট্রিট করেছে, আমি বলব- আমি ভেরি ব্লেসড। এটা পুরোপুরি আলাদা এক অভিজ্ঞতা।

তবে বিষয়টি খুব বেশি বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করতে চান না জানিয়ে তিনি বলেন, এটা খুব কনফিডেনশিয়াল, সবাই জানুক- আমি তা চাই না। কিন্তু আমি রেসপেক্টেড ছিলাম, আমাকে নাইসভাবে ট্রিট করা হয়েছে। কোনো ধরনের ডিসরেসপেক্ট ছিল না, বরং আমি ভালোবাসাই পেয়েছি।

নিজের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার কথাও তুলে ধরেন অভিনেত্রী। নুসরাত ফারিয়া বলেন, আমার তো খাওয়াই হজম হয়নি, প্রায় ৪৮ ঘণ্টা আমি কিছু খাইনি। কিন্তু দেখেছি, মানুষজন আমাকে লতি দিয়ে ভাত খাইয়ে দিচ্ছে। সকালে রুটি ছিঁড়ে মিষ্টিকুমড়া দিয়ে খাওয়াচ্ছে।

আবেগঘন কণ্ঠে তিনি আরও বলেন, আমি শুধু মনে করতে পারি— আমার চোখ দিয়ে টিয়ারড্রপ পড়ছে, আর ওরা আমাকে খাইয়ে দিচ্ছে। এমন মানুষ, যাদের আমি চিনি না, হয়তো জীবনে আর কখনো দেখবও না।

তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে নুসরাত ফারিয়া বলেন, আমি মন থেকে দোয়া করি, আল্লাহ যেন তাদের সব কষ্ট দূর করে দেন। কারণ ওই ক্রুশাল মোমেন্টে তারা আমার সঙ্গে কিছু না হয়ে শুধু ভালো আর দয়ালুই ছিল।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১৮ মে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে নুসরাত ফারিয়াকে আটক করা হয়। বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে থাইল্যান্ড যাওয়ার সময় ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করে ভাটারা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র-জনতার ওপর ‘হত্যাচেষ্টা’র অভিযোগে ভাটারা থানায় একটি মামলা করা হয়, যেখানে ফারিয়াকে আসামি করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *