বিশ্বজুড়ে খবর, এক ক্লিকেই

September 24, 2026 4:27 am
September 24, 2026 4:27 am

‘আজ কেন মন উদাসী হয়ে’ গানের রিলে আলোচিত সেই বিউটি হলেন জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল রিল ভিডিও ও সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়ে দেশজুড়ে আলোচনায় আসা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিউটি রানী পাল সিলেট জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিঠাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাখাওয়াত এরশেদ এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, জেলার সব কটি উপজেলা থেকে বাছাই করা শিক্ষকদের মধ্যে থেকে চারজনকে জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে, যার মধ্যে বিউটি পালও রয়েছেন। সিলেট জেলার অন্য শ্রেষ্ঠ শিক্ষকরা হলেন সিলেট সদর উপজেলার জহিরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন লস্কর, ওসমানীনগর উপজেলার আদমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরজাহান বেগম এবং গোলাপগঞ্জ উপজেলার চৌধুরীবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আদরী রানী দাস।

গত সোমবার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাখাওয়াত এরশেদের সই করা স্মারকের মাধ্যমে নির্বাচিত শ্রেষ্ঠ শিক্ষকদের নাম বিভাগীয় কার্যালয়ে পাঠানো হয়। যাচাই-বাছাই শেষে বিভাগীয় পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ শিক্ষকদের নাম ঘোষণা করা হলেও সেই তালিকায় বিউটি রানী পালের নাম ছিল না।

এর আগে গত ২৩ জুলাই ‘ডিফরেন্ট টাচ’ ব্যান্ডের জনপ্রিয় গানের একটি কলি ‘আজ কেন মন উদাসী হয়ে দূর অজানায় চায় হারাতে’ ব্যবহার করে একটি রিল ভিডিও নিজের ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন বিউটি রানী পাল। পরবর্তীতে ভিডিওটি একটি ফেসবুক পেজ থেকে নেতিবাচক তথ্য যুক্ত করে ছড়িয়ে দেওয়া হলে তাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ট্রল শুরু হয়। বুলিংয়ের মুখে তিনি ভিডিওটি সরিয়ে নেন।

এই ঘটনার প্রতিবাদে দেশের শত শত নারী শিক্ষক একই গানের সঙ্গে নিজেদের ছবি ও ভিডিও যুক্ত করে ফেসবুকে আপলোড করেন। শিক্ষক সমাজের এই অভিনব প্রতিবাদে পরবর্তীতে নানা শ্রেণি-পেশার অসংখ্য মানুষ সংহতি প্রকাশ করেন।

শিক্ষাগত জীবনে বিউটি রানী পাল সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। ২০১৩ সালে শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেওয়ার পর থেকেই তিনি এলাকায় অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে কাজ করে আসছেন। এর আগেও তিনি একবার জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছিলেন। ফেসবুকে আনন্দঘন পরিবেশে পাঠদান, শিক্ষার্থীদের শরীরচর্চা ও নাচের ছন্দে পড়াশোনা শেখানোর শিক্ষামূলক ভিডিও নিয়মিত আপলোড করার কারণে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছে তিনি দারুণ জনপ্রিয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *