রাজধানীর ফার্মগেটে মেট্রোরেলের ধাতব যন্ত্রাংশ মাথায় পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন আবুল কালাম নামের এক যুবক। দুর্ঘটনার মাত্র কিছুক্ষণ আগে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি জীবনের প্রতি ভালোবাসা নিয়ে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। সেটিই এখন হয়ে উঠেছে তার জীবনের শেষ বার্তা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ করেই মেট্রোরেলের ওপর থেকে একটি ভারী ধাতব অংশ নিচে পড়ে যায় এবং তা সরাসরি আবুল কালামের মাথায় আঘাত হানে। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে আবুল কালাম ঢাকায় একটি ট্রাভেল এজেন্সি পরিচালনা করতেন। নিয়মিত ব্যবসায়িক কাজে তিনি ফার্মগেট এলাকায় যাতায়াত করতেন। তার গ্রামের বাড়ি ফরিদপুর জেলায়। পারিবারিক জীবনে তিনি এক পুত্র ও এক কন্যাসন্তানের জনক—ছেলে আব্দুল্লাহ (৫) এবং মেয়ে সুরাইয়া আক্তার (৩)।
নিহতের মেঝভাবি আছমা বেগম বলেন, “দুপুর ১২টার দিকে তার সঙ্গে আমার শেষ কথা হয়। সে বলছিল, দু–এক দিনের মধ্যে বাড়িতে আসবে, যেন আমি ইলিশ মাছ কিনে রাখি। আমার ভাই আর ফিরলো না…”
চাচাতো ভাই আব্দুল গণি চোকদার বলেন, “আবুল কালাম খুব পরিশ্রমী ও ভদ্র স্বভাবের মানুষ ছিলেন। নিজের চেষ্টায় ঢাকায় ব্যবসা দাঁড় করিয়েছিলেন। এমন আকস্মিক মৃত্যু আমাদের জন্য অসহনীয়। সরকারের অবহেলার কারণেই সে আজ আর বেঁচে নেই।”
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, মেট্রোরেলের উড়ালপথে ভারসাম্য রক্ষায় ব্যবহৃত ‘বিয়ারিং প্যাড’ নামের ধাতব অংশটি আলগা হয়ে নিচে পড়ে যায়। প্রতিটি বিয়ারিং প্যাডের ওজন প্রায় ১৪০ থেকে ১৫০ কেজি। এ ধরনের অংশ খুলে পড়লে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থাকে।
দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান সড়ক ও রেল উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান। তিনি জানান, নিহত ব্যক্তির পরিবারকে মেট্রোরেলের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে ৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি পরিবারের কর্মক্ষম কোনো সদস্য থাকলে তাকে মেট্রোরেলে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
এর আগে গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বরও ঢাকার মেট্রোরেল থেকে একটি বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়েছিল। সেই ঘটনায় ১১ ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে এবং নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে আবারও এমন দুর্ঘটনা ঘটায় নাগরিকদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।











