ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে আদালতের স্থগিতাদেশের মুখে পড়েছিল বলিউডের আলোচিত সিনেমা ‘হক’। শেষ পর্যন্ত আনকাট সেন্সর ছাড়পত্র পেয়েছে ছবিটি। ভারত ছাড়াও সংযুক্ত আরব আমিরাত, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য—এই পাঁচ দেশে একযোগে মুক্তি পাচ্ছে সিনেমাটি আগামী ৭ নভেম্বর।
‘হক’-এর কাহিনি নির্মিত হয়েছে ভারতীয় নারী শাহ বানো-এর জীবনের অনুপ্রেরণায়। ১৯৮৫ সালের ঐতিহাসিক শাহ বানো মামলা ভারতীয় মুসলিম নারীর অধিকার ও ধর্মীয় ব্যাখ্যার জটিল এক অধ্যায় খুলে দিয়েছিল। সেই বিতর্কিত পটভূমিকে অবলম্বন করেই নির্মাতা সিনেমাটি তৈরি করেন।
তবে মুক্তির আগেই শাহ বানোর পরিবারের পক্ষ থেকে সিনেমার মুক্তি স্থগিতের আবেদন করা হয় আদালতে। পরিবারের আইনজীবী তৌসিফ ওয়ারসি অভিযোগ করেন, ছবিতে শরিয়া আইনকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং পরিবারকে না জানিয়ে শাহ বানোর জীবনের ঘটনাগুলো ব্যবহার করা হয়েছে।
বিতর্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে নির্মাতারা যখন উদ্বেগে ছিলেন, তখন গত ৪ নভেম্বর আদালতের নির্দেশে ছবিটি আনকাট সেন্সর ছাড়পত্র পায়। বিচারকরা রায়ে উল্লেখ করেন, ছবিটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতার আওতায় পড়ে এবং এতে কোনো ধর্মীয় গোষ্ঠীর প্রতি ঘৃণা উসকে দেওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
‘হক’-এ কেন্দ্রীয় চরিত্র সাজিয়া বানো রূপে অভিনয় করেছেন বলিউড অভিনেত্রী ইয়ামি গৌতম। তার আইনজীবী আব্বাস চরিত্রে রয়েছেন ইমরান হাশমি। নারীর অধিকার, ধর্মীয় রীতিনীতি ও সামাজিক ন্যায়বিচার—এই তিনটি থিমকে ঘিরে এগিয়েছে সিনেমার মূল কাহিনি।
চলচ্চিত্র সমালোচকরা বলছেন, শাহ বানো মামলার প্রেক্ষাপটে ‘হক’ কেবল একটি সিনেমা নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার মুসলিম নারীর সামাজিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনার দরজা খুলে দেবে।
সিনেমাটি প্রযোজনা করেছে ‘ওশানিক ফিল্মস’, পরিচালনা করেছেন আরিফ রেজা খান।











