শীতকাল এলেই অনেকের নাক বন্ধ, চোখ চুলকানো বা অবিরাম হাঁচির সমস্যা দেখা দেয়। বেশিরভাগ মানুষই এটিকে সাধারণ সর্দি বা ঋতু পরিবর্তনের প্রভাব ভেবে এড়িয়ে যান। কিন্তু চিকিৎসকরা বলছেন—এই উপসর্গগুলো দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে তা অ্যালার্জিক রাইনাইটিসের লক্ষণ হতে পারে, যা চিকিৎসা না নিলে বড় ধরনের শ্বাসযন্ত্রের জটিলতা ডেকে আনতে পারে।
শীতে অ্যালার্জি বেড়ে যায় কেন
শীতকালে বাতাসে ধুলো, পরাগরেণু, ধোঁয়া ও দূষণের পরিমাণ বেড়ে যায়। এসবই হলো মূল অ্যালার্জেন, যা নাক ও শ্বাসনালিতে প্রদাহ সৃষ্টি করে। ফলে নাক দিয়ে পানি পড়া, গলা চুলকানো, চোখ লাল হয়ে যাওয়া বা জ্বালাপোড়া দেখা দেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যাদের আগে থেকেই অ্যালার্জি বা অ্যাজমা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে শীতের এই প্রভাব আরও তীব্রভাবে দেখা দেয়।
অ্যালার্জিক রাইনাইটিসের সাধারণ লক্ষণ
- সকালে বারবার হাঁচি হওয়া
- নাক দিয়ে পাতলা পানি পড়া বা নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া
- চোখ, নাক ও গলায় চুলকানি
- চোখ লাল হয়ে পানি পড়া
- রাতে কাশি বেড়ে যাওয়া বা শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া
চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলেন—এই উপসর্গগুলো সাধারণ ঠাণ্ডার মতো হলেও যদি দুই সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয়, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
প্রতিরোধ ও ঘরোয়া করণীয়
- অ্যালার্জেন এড়িয়ে চলুন: ধুলো, পশুর লোম, ফুলের পরাগ বা যেগুলিতে অ্যালার্জি হয়, সেগুলো থেকে দূরে থাকুন।
- বিছানাপত্র পরিষ্কার রাখুন: লেপ, বালিশ ও কম্বল নিয়মিত গরম পানিতে ধুয়ে নিন।
- ঘরের বাতাস বিশুদ্ধ রাখুন: HEPA ফিল্টারযুক্ত এয়ার পিউরিফায়ার ব্যবহার করুন। সকাল-বিকেল জানালা বন্ধ রাখুন।
- বাইরে থেকে এলে পোশাক পালটান: ঘরে ঢুকেই জামাকাপড় পরিবর্তন ও গোসল করা ভালো অভ্যাস।
- ধূমপান ও গন্ধ এড়িয়ে চলুন: পারফিউম বা ধোঁয়া অ্যালার্জি বাড়াতে পারে।
- নাক পরিষ্কার রাখুন: প্রতিদিন সকালে ও রাতে লবণ পানি দিয়ে নাক ধুয়ে নিন।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন
নিজে থেকে ওষুধ না খেয়ে ইএনটি বা অ্যালার্জি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। ভুল অ্যান্টিহিস্টামিন বা ন্যাজাল স্প্রে ব্যবহারে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরতা তৈরি হয়।
জীবনধারায় ছোট পরিবর্তন আনুন
- নিয়মিত হালকা ব্যায়াম করুন ও পর্যাপ্ত ঘুম নিন।
- প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করুন—এতে শ্লেষ্মা পাতলা থাকে।
- ভিটামিন সি ও জিঙ্কসমৃদ্ধ খাবার খান।
- নাক-চোখে হাত দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন: শীতে নাক বন্ধ বা চোখ চুলকানোকে হালকাভাবে নেবেন না। এটি যদি অ্যালার্জিক রাইনাইটিস হয়, তাহলে প্রাথমিক যত্ন ও সচেতনতা দিয়েই বড় জটিলতা প্রতিরোধ সম্ভব।











