হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পোড়া কার্গো ভিলেজ এলাকা থেকে মোবাইল ফোন চুরির ঘটনায় জড়িত এক আনসার সদস্যকে স্থায়ীভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী।
বাহিনীর মহাপরিচালকের নির্দেশে নেওয়া এই শাস্তিমূলক পদক্ষেপটি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ঘটনাটি যেভাবে ঘটেছে
৫ নভেম্বর রাতে বিমানবন্দরের নাইট শিফটে (রাত ১০টা ৩০ মিনিট থেকে সকাল ৬টা ৩০ মিনিট) দায়িত্বে ছিলেন আনসার সদস্য জেনারুল ইসলাম। ওই সময় তিনি ‘ব্যক্তিগত প্রয়োজনে’ পোড়া ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে আগুনে ভস্মীভূত দ্রব্য থেকে কয়েকটি বাটন মোবাইল ফোন সংগ্রহের চেষ্টা করেন।
এ সময় তাকে সহকর্মীরা হাতেনাতে ধরে ফেলেন এবং বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে।
দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা
ঘটনার পরপরই তদন্ত শেষে জেনারুল ইসলামকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয়। আনসারের উপপরিচালক ও গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. আশিকউজ্জামান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে,
“এত দ্রুততম শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে অনৈতিক চর্চা কমানোর একটি উদাহরণ স্থাপন করা হয়েছে।”
পটভূমিতে বিমানবন্দরের আগুন
এর আগে ২ নভেম্বর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আমদানি কার্গো কমপ্লেক্সে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ওই ঘটনায় অক্ষত স্ট্রংরুম থেকে সাতটি আগ্নেয়াস্ত্র চুরির ঘটনাও ধরা পড়ে, যা নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
নৈতিকতা ও বেতন কাঠামো নিয়ে বক্তব্য
বাহিনীর বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, অঙ্গীভূত আনসার সদস্যরা স্বল্প বেতনে রাষ্ট্রের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। এ কারণে বাহিনী এখন সদস্যদের মানসিক ও নৈতিক প্রশিক্ষণ আরও জোরদার করছে।
এছাড়া পে কমিশন চেয়ারম্যানের কাছে আনসার সদস্যদের যৌক্তিক বেতন বৃদ্ধির আবেদন জানানো হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ আশা করছে, শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা ও সদস্যদের কল্যাণমূলক সহায়তা বাড়ানো হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড রোধ করা সম্ভব হবে।











