দাবি আদায়ে এবার মাঠে নামছেন প্রাথমিক শিক্ষকরা। আগামী রোববার (১০ নভেম্বর) থেকে সারাদেশে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি।
সংগঠনটি জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানানো সত্ত্বেও বেতন কাঠামো ও পদমর্যাদায় বৈষম্য নিরসনে সরকার কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। তাই বাধ্য হয়েই তারা আন্দোলনের পথে নামছেন।
প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. আজহারুল ইসলাম আজ সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন,
“আমরা শিক্ষার মানোন্নয়ন চাই, কিন্তু শিক্ষককে ন্যায্য মর্যাদা না দিলে সেই মানোন্নয়ন সম্ভব নয়। সরকারের কাছে আমরা শেষবারের মতো আহ্বান জানাচ্ছি— আমাদের যৌক্তিক দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন করুন, নয়তো কর্মবিরতি চলবে অনির্দিষ্টকাল।”
তিনি জানান, প্রথম পর্যায়ে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস বন্ধ থাকবে, এবং শিক্ষকরা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন। এরপরও দাবি আদায় না হলে তারা রাজধানীমুখী পদযাত্রা ও মহাসমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।
সমিতির সাধারণ সম্পাদক শেখ মনিরুজ্জামান বলেন,
“একজন সহকারী শিক্ষকের বেতন স্কেল এখনও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর কাছাকাছি। অথচ তারা দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তুলছেন। এটা কোনোভাবেই ন্যায়সঙ্গত নয়।”
উল্লেখ্য, প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—
-সহকারী শিক্ষকদের ৯ম গ্রেডে উন্নীতকরণ,
-প্রধান শিক্ষকদের ৮ম গ্রেডে পদোন্নতি,
-শিক্ষা অফিসারদের সমমানের মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা,
-শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা ও সময়মতো পদোন্নতি।
এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনার দ্বার খোলা রয়েছে, তবে কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত “দুঃখজনক” বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।










