বিশ্বজুড়ে খবর, এক ক্লিকেই

December 1, 2025 3:26 am
December 1, 2025 3:26 am

পারিবারিক জটিলতা ও জমি বিরোধে বিপর্যস্ত পপি: সহায়তার সন্ধানে সাবেক তারকা

চলচ্চিত্রজগতের এক সময়ের জনপ্রিয় মুখ পপি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যক্তিগত নানা সংকট ও বিতর্কে আলোচনায় রয়েছেন। অভিনয়, বিয়ে, সন্তানের জন্ম, দীর্ঘদিন আড়ালে থাকা—সবকিছুর বাইরে এখন তার সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা জমি ও সম্পত্তি ঘিরে চলমান বিরোধ। নিজের ভাষায়, তিনি প্রতারণার শিকার, আর কোথায় গেলে বিচার মিলবে—তা ভেবে দিশেহারা।

পপি জানান, বহু বছর ধরে চলচ্চিত্রে কাজ করে যে উপার্জন করেছেন, তার বেশিরভাগই পরিবারের কথায় খুলনা অঞ্চলে বিনিয়োগ করেছিলেন। আত্মীয়-স্বজন জমি বিক্রির প্রলোভন দেখিয়ে তাকে সম্পত্তি কিনতে উদ্বুদ্ধ করতেন। এখন সেই জমিগুলো তার দখলে নেই। অভিযোগ তুলেছেন—পরিবারের সদস্য এবং আত্মীয়দের কেউই তাকে তার বিনিয়োগ ফিরিয়ে দিতে আগ্রহী নন।

তিনি বলেন, তার এক চাচাতো বোনের স্বামী তারেক দীর্ঘদিন তাদের বাসায় থাকতো। পরে সে তার চাচাতো বোনকে বিয়ে করে এবং ধীরে ধীরে তার সম্পত্তির ওপর প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করে। পপির দাবি, ওই ব্যক্তি প্রভাবশালী মহলকে ব্যবহার করে নানা জালিয়াতির মাধ্যমে বিপুল সম্পদ গড়ে তুলেছেন। জমি ফেরতের অনুরোধ করলেও কোনো সাড়া পাননি।

এ ছাড়া একটি বেদনাদায়ক অভিযোগও তুলেছেন তিনি—তার বাবা-মায়ের প্রভাবেই তিনি বহু সম্পদ কিনেছিলেন, কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় নিজেরই সেই সম্পত্তির মালিকানা নিশ্চিত করতে পারছেন না। পরিবারের প্রতি দীর্ঘদিনের বিশ্বাসই আজ শঙ্কায় পরিণত হয়েছে।

ঢাকায় নিজের নামে কোনো ফ্ল্যাট বা বাসস্থান না থাকায় পপি আরও অসহায় বোধ করছেন। তার ভাষায়, “চলচ্চিত্রে যদি ফিরে আসিও, এখনকার পরিস্থিতিতে আগামী এক দশকেও একটা ছোট জমি কেনা সম্ভব না। খুলনায় যা করেছি, আজ সেগুলো অন্যরা ব্যবহার করছে; আমাকে দিচ্ছে না।”

সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে থানায়, আদালতে ঘুরতে হচ্ছে জানিয়ে পপি বলেন, এতে শিশুটিও অল্প বয়সেই কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছে, যা তার মনে বিরূপ প্রভাব ফেলবে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন। তবুও তিনি বিচার ও নিজের অধিকার ফিরে পাওয়ার আশায় লড়ে যাচ্ছেন।

অভিনেত্রী আক্ষেপ করে বলেন, “আমি প্রতারণার শিকার। কোথায় গেলে সহায়তা পাব, জানি না। আগের সময়ে থানায় গিয়ে সহায়তা পাইনি, এখনো পাচ্ছি না।”

তার বক্তব্যে ক্ষোভ, অসহায়তা ও দীর্ঘদিনের মানসিক চাপের ছাপ স্পষ্ট। পপি এখন রাষ্ট্রীয় বা আইনি সহায়তার আশায়, যাতে অন্তত নিজের অধিকার ও সম্পত্তি ফিরিয়ে পেতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *