বাংলাদেশ ও উজবেকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে সচিবালয়ে বৈঠকে বসেছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত উজবেকিস্তানের অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত সারদর রুস্তামবায়েভ। বুধবার বিকেলে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দুই পক্ষই বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব আরও দৃঢ় করার বিষয়ে একমত হন।
সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সৌজন্য সাক্ষাতে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ ও উজবেকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে পারস্পরিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে। তিনি জানান, টেকসই বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর ও কার্যকর করতে চায় বাংলাদেশ। বিশেষ করে বস্ত্র ও পোশাক খাত, চামড়া শিল্প, ফার্মাসিউটিক্যাল, কৃষিপণ্য এবং এগ্রো-প্রসেসিং খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
রাষ্ট্রদূত সারদর রুস্তামবায়েভ বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রশংসা করে বলেন, উজবেকিস্তান বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্য সম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহী। তার মতে, দুই দেশের বাজার পরস্পরের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। বিশেষত তৈরি পোশাক, ওষুধ, কৃষিপণ্য এবং চামড়াজাত দ্রব্যে উজবেকিস্তানের আগ্রহ বাড়ছে।
আলোচনায় জানানো হয়, দুদেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় ১৯৯২ সালের অক্টোবর মাসে। সাম্প্রতিক অর্থবছরে দুই দেশের মোট বাণিজ্য দাঁড়ায় ৩৭.২৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে বাংলাদেশ উজবেকিস্তানে রপ্তানি করেছে ৩২.৮৩ মিলিয়ন ডলার এবং আমদানি করেছে ৪.৪০ মিলিয়ন ডলার। পরিসংখ্যান বলছে, গত কয়েক বছর ধরে দুই দেশের বাণিজ্যিক যোগাযোগ ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বৈঠকে আরও আলোচনা হয়—বাণিজ্য বাধা অপসারণ, সম্ভাবনাময় পর্যটন খাতের উন্নয়ন, ঢাকা–তাসখন্দ সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালুর সম্ভাবনা, যৌথ বিনিয়োগ প্রকল্প সম্প্রসারণ এবং বাণিজ্যসংক্রান্ত তথ্য আদান–প্রদান ত্বরান্বিত করার বিষয়ে। দুই দেশই এসব উদ্যোগকে ভবিষ্যত সহযোগিতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান এবং অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) মো. আব্দুর রহিম খান বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।











