বিশ্বজুড়ে খবর, এক ক্লিকেই

July 22, 2026 10:00 am
July 22, 2026 10:00 am

ব্যাটিং অর্ডারের অস্বাভাবিক সিদ্ধান্তে প্রশ্নের মুখে ভারত

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দ্বিতীয় টি–টোয়েন্টিতে ভারতের ৫১ রানের পরাজয়ের পর সমালোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে দলের ব্যাটিং অর্ডার। বিশেষ করে তিন নম্বরে অক্ষর প্যাটেলকে পাঠানোর অদ্ভুত সিদ্ধান্ত নিয়ে বিস্মিত ক্রিকেট বিশ্লেষক থেকে শুরু করে সাবেক তারকারা। ম্যাচ শেষে অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব নিজেও সিদ্ধান্তটির জন্য স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

২১৪ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়ায় নামতেই প্রথম ওভারেই শূন্য রানে ফিরে যান শুভমান গিল। সেই অবস্থায় স্বাভাবিকভাবেই ক্রিজে যাওয়ার কথা ছিল সূর্যকুমার বা নিয়মিত তিন নম্বর ব্যাটার তিলক ভর্মার। কিন্তু দল পাঠিয়ে দেয় অক্ষর প্যাটেলকে—যিনি মূলত অলরাউন্ডার এবং স্বভাবগতভাবেই আক্রমণাত্মক খেলায় অভ্যস্ত নন।

তিলক ভর্মা আগেও তিন নম্বরে সফল হয়েছেন, ক্রিজে তখন বাঁহাতি অভিষেক শর্মাও ছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে আরও একজন বাঁহাতিকে পাঠিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ওভারগুলোতে ‘অ্যাঙ্করিং’ ব্যাটিং করানোকে ক্রিকেটবিশেষজ্ঞরা কৌশলগত ভুল বলেই মনে করছেন। অক্ষর ২১ বলে ২১ রানের বেশি করতে পারেননি, যখন প্রয়োজন ছিল দ্রুত গতিতে রান তোলার।

ম্যাচ শেষে সূর্যকুমারের বক্তব্য ছিল অনেকটাই অনিশ্চিত: “আগের ম্যাচে অক্ষর ভালো ব্যাট করেছিল। তাই আজও তাকে সুযোগ দিতে চেয়েছিলাম। পরিকল্পনা কাজে লাগেনি, তবে অক্ষর খারাপ খেলেনি।”

সহকারী কোচ রায়ান টেন ডোয়েসাটের ব্যাখ্যাও পরিষ্কার নয়। তিনি বলেন, দল বিশ্বকাপের আগে বিভিন্ন কম্বিনেশন পরীক্ষা করছে। তার ভাষায়, “গত কয়েক মাসে আমরা বেশ কয়েকবার ৩৫/৩ অবস্থায় পড়েছি। ওপেনার আর পাওয়ারহিটারদের মাঝে কারা স্থিতিশীলতা আনতে পারে—সেটা খুঁজছি।”

কিন্তু ২১৪ রানের মতো কঠিন লক্ষ্য তাড়ার সময়ে এমন পরীক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিশেষজ্ঞরা। যখন দলে সূর্যকুমার ও তিলক—দুজনেই প্রতিষ্ঠিত টি–টোয়েন্টি ব্যাটার—তখন অক্ষরকে তিন নম্বরে পাঠানো ছিল ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত।

পাওয়ারপ্লেতে দ্রুত তিন উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকেই ছিটকে যায় ভারত। তিলক ভর্মার দৃষ্টিনন্দন ৩৪ বলে ৬২ রান দলকে ফেরাতে যথেষ্ট হয়নি। ১৯.১ ওভারে ১৬২ রানে অলআউট হয়ে ভারতের ইনিংস শেষ হয়।

পাঁচ ম্যাচ সিরিজ এখন ১–১ সমতায়। তৃতীয় টি–টোয়েন্টি অনুষ্ঠিত হবে রোববার, ধর্মশালায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *