বিশ্বজুড়ে খবর, এক ক্লিকেই

February 4, 2026 7:05 am
February 4, 2026 7:05 am

শুরু হলো বাঙালির আবেগের মাস ফেব্রুয়ারি

শুরু হয়েছে বাঙালির ভাষা আন্দোলনের মাস ফেব্রুয়ারি। খ্রিষ্ট্রীয় ক্যালেন্ডারে দ্বিতীয় এ মাসটির আগমনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলার গৌরবগাঁথা; বাঙালির অর্জনের গল্প।

ফেব্রুয়ারি বাঙালির কাছে শুধুই একটি মাস নয়। এটি আত্মত্যাগ, প্রতিবাদ ও ভাষাভিত্তিক পরিচয় অর্জনের মাস। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ঢাকার রাজপথে জীবন উৎসর্গের মধ্য দিয়ে বাঙালির জাতীয় জীবনে প্রতিষ্ঠিত হয় মাতৃভাষার অধিকার।

১৯৫২ থেকে ২০২৬—দীর্ঘ ৭৪ বছরে এমন রক্তমাখা ইতিহাস আর আত্মত্যাগ গোটা বাংলাকে করেছে গৌরাবান্বিত। তাই তো ৫৬ হাজার বর্গমাইল পেরিয়ে বাংলা ভাষা এখন বিশ্বের।

ভাষা আন্দোলনের মাসের প্রথম দিন থেকেই শুরু হয় বিভিন্ন কর্মসূচি। সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, শফিউরসহ ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে মাসজুড়ে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের আয়োজনে ভাষা আন্দোলনের চেতনা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা হয়।

তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও পবিত্র রমজানসহ বিভিন্ন ইস্যুতে এবার ফেব্রুয়ারির প্রথম দিন থেকে শুরু হচ্ছে না অমর একুশে গ্রন্থমেলা।

ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক তাৎপর্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায় ১৯৯৯ সালে। ওই বছর ইউনেসকো ২১ ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে। এরপর থেকে একুশে ফেব্রুয়ারি শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার প্রতীক হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস থেকে জানা যায়, পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল, গণপরিষদের সভাপতি ও মুসলিম লিগের সভাপতি মোহাম্মদ আলি জিন্নাহ ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) এক সভায় বলেছিলেন, ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় ভাষা হবে উর্দু, অন্য কোনো ভাষা নয়।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার কথা বলার পর কয়েকজন ছাত্র ‘না’ ‘না’ বলে চিৎকার করে প্রতিবাদ করেন, যা জিন্নাহকে অপ্রস্তুত করে তোলে। এ ঘটনার পর জিন্নাহকে একটি স্মারকলিপিও দিয়েছিলেন শিক্ষার্থীরা। এতে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানানো হয়। সেই থেকে শুরু রাষ্ট্রভাষার দাবিতে আন্দোলন। দীর্ঘ এ আন্দোলন ১৯৪৭ থেকে চলতে থাকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত।

বাংলা ভাষার সমমর্যাদার দাবিতে পূর্ব পাকিস্তানে আন্দোলন ক্রমে দানা বেঁধে ওঠে। আন্দোলন দমাতে পুলিশ ১৪৪ ধারা জারি করে ঢাকা শহরে, মিছিল-সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি এ আদেশ অমান্য করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু শিক্ষার্থী ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক কর্মী মিলে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন। মিছিলটি ঢাকা মেডিকেল কলেজের কাছাকাছি এলে পুলিশ ১৪৪ ধারা অবমাননার অজুহাতে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলিবর্ষণ করে।

এ সময় নিহত হন সালাম, জব্বার, শফিক, বরকত ও রফিকসহ নাম না-জানা আরও অনেকে। তাদের এ আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাঙালি জাতির কাছে প্রতিষ্ঠিত হয় মাতৃভাষার মর্যাদা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *