যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট জাতীয় জরুরি পরিস্থিতি আইনের আওতায় আরোপিত সাবেক প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর বৈশ্বিক শুল্ক বাতিল করায় বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে স্বস্তির আভাস দেখা দিয়েছে। ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, বৈষম্যমূলক শুল্ক কাঠামো বাতিল হলে প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র কিছুটা সমতাভিত্তিক হবে এবং নীতিগত অনিশ্চয়তা কমবে।
তবে একই সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসন বিকল্প আইনি ভিত্তিতে প্রথমে ১০ শতাংশ এবং পরে তা বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। ফলে স্বস্তির পাশাপাশি নতুন চাপের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সাম্প্রতিক বাণিজ্য ব্যবস্থার আওতায় বাংলাদেশের ওপর ১৯ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপের প্রেক্ষাপটে আদালতের রায়কে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন রপ্তানিকারকেরা।
ব্যবসায়ীদের ব্যাখ্যায় জানা যায়, প্রশাসন স্বল্পমেয়াদি সমাধান হিসেবে ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ১২২ ধারা প্রয়োগ করে অধিকাংশ আমদানির ওপর ১৫ শতাংশ সারচার্জ আরোপ করেছে, যা ২৪ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে কার্যকর হবে। এই ব্যবস্থা সর্বোচ্চ ১৫০ দিন, অর্থাৎ ২০২৬ সালের ২৪ জুলাই পর্যন্ত বলবৎ থাকতে পারে, যদি এর আগে বাতিল বা সংশোধন না করা হয়। সময়সীমাটি বাণিজ্য আলোচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ চাপ সৃষ্টিকারী উপাদান হিসেবে কাজ করতে পারে।
দীর্ঘমেয়াদে প্রশাসন ‘ধারা ৩০১’ এর আওতায় তথাকথিত অসৎ বাণিজ্যচর্চার তদন্ত সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আরও নির্দিষ্ট ও উচ্চতর শুল্ক আরোপের পথ তৈরি হতে পারে, যা ২০২৬ সালের শেষার্ধে কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
Bangladesh Garment Manufacturers and Exporters Association-এর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, সুপ্রিম কোর্ট পূর্ববর্তী আইইইপিএভিত্তিক ‘রেসিপ্রোকাল’ শুল্ক বাতিল করার পর প্রশাসন দ্বিমুখী কৌশল নিয়েছে—একটি স্বল্পমেয়াদি ‘সেতু’, অন্যটি দীর্ঘমেয়াদি ‘দুর্গ’। তার মতে, আদালতের রায় পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা পেতে পারে।
অর্থনীতিবিদ ড. মো. আইনুল ইসলাম মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত পরিবর্তনশীল হওয়ায় চূড়ান্ত প্রভাব সম্পর্কে এখনই নিশ্চিত হওয়া কঠিন। নতুন ১৫ শতাংশ শুল্ক বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কীভাবে প্রযোজ্য হবে, তা স্পষ্ট নয়। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পরই বাস্তব চিত্র পরিষ্কার হবে।
বিজিএমইএর পরিচালক ফয়সাল সামাদ বলেন, বর্তমান অবস্থার প্রকৃত প্রভাব বুঝতে অন্তত এক সপ্তাহ সময় লাগবে। আদালতের রায় এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নির্ধারণ করবে রপ্তানি খাতের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা।
বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে বাংলাদেশকে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক আলোচনায় সক্রিয় থাকতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি চূড়ান্তভাবে কোন পথে এগোয়, সেটিই নির্ধারণ করবে পোশাক রপ্তানিতে স্বস্তি নাকি নতুন চাপ তৈরি হবে।











