বিশ্বজুড়ে খবর, এক ক্লিকেই

April 11, 2026 5:54 am
April 11, 2026 5:54 am

আফগান সীমান্তে পাকিস্তানের ‘টার্গেটেড’ বিমান হামলা, নিহত ৮০-এর বেশি—ইসলামাবাদের দাবি

আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে চালানো সাম্প্রতিক বিমান অভিযানে অন্তত ৮০ জন সশস্ত্র যোদ্ধা নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে পাকিস্তান। দেশটির এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অভিযানে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর সাতটি ঘাঁটি ধ্বংস করা হয়েছে। তবে কাবুল এই হামলাকে সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দিয়ে বেসামরিক হতাহতের অভিযোগ তুলেছে।

রবিবার ভোরে পরিচালিত এ হামলায় ‘ক্যাম্প ও আস্তানা’ লক্ষ্য করে নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আঘাত হানা হয়েছে বলে জানায় Ministry of Information and Broadcasting Pakistan। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, টিটিপি ও তাদের সহযোগী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ‘নির্বাচিত ও লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান’ চালানো হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় আইএসআইএল সংশ্লিষ্ট একটি গোষ্ঠীকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয় বলে দাবি ইসলামাবাদের।

পাকিস্তানের অভিযোগ, ইসলামাবাদ, বাজৌর ও বান্নু জেলায় সাম্প্রতিক হামলাগুলো আফগানিস্তানভিত্তিক নেতৃত্বের নির্দেশে পরিচালিত হয়েছে—এমন ‘চূড়ান্ত প্রমাণ’ তাদের হাতে রয়েছে। বিশেষ করে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশ ও রাজধানীতে হামলায় টিটিপি ও তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর সম্পৃক্ততার কথা বলা হয়েছে। ইসলামাবাদের ভাষ্য, এসব হামলা ‘আফগান ভূখণ্ডের নিরাপদ আশ্রয়’ থেকে পরিচালিত হচ্ছে। যদিও কাবুল এ অভিযোগ নাকচ করেছে।

পাকিস্তানের আগের এক বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অভিযানের লক্ষ্যগুলোর মধ্যে ছিল Islamic State – Khorasan Province-এর একটি ঘাঁটি। এই গোষ্ঠী চলতি মাসে ইসলামাবাদের একটি শিয়া মসজিদে আত্মঘাতী হামলার দায় স্বীকার করেছিল, যেখানে ৩২ জন নিহত হন।

অন্যদিকে আফগান সরকারের মুখপাত্র Zabihullah Mujahid অভিযোগ করেন, পাকিস্তানি বাহিনী আফগান ভূখণ্ডে প্রবেশ করে নাঙ্গারহার ও পাকতিকা প্রদেশে বোমা হামলা চালিয়েছে। এতে নারী ও শিশুসহ বহু বেসামরিক মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়। এসব হতাহতের তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। পাকিস্তান তাৎক্ষণিকভাবে বেসামরিক হতাহতের অভিযোগে মন্তব্য করেনি।

আফগান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, তারা কাবুলে নিযুক্ত পাকিস্তানের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স উবাইদ-উর-রহমান নিজামনীকে তলব করে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে। তাদের ভাষ্য, এ হামলা আফগানিস্তানের আকাশসীমা ও সার্বভৌমত্বের স্পষ্ট লঙ্ঘন।

২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে। পাকিস্তান অভিযোগ করে আসছে, ২০২০ সালের দোহা চুক্তির অঙ্গীকার অনুযায়ী আফগান মাটি অন্য দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহার না করার প্রতিশ্রুতি তালেবান কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করছে না। তালেবান বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

সাম্প্রতিক এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও সামরিক পদক্ষেপ দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে বলে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *