যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) নিহত বাংলাদেশি দুই পিএইচডি শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। এ ঘটনায় আদালতে শুনানি হয়েছে। দাখিলকৃত নথি অনুযায়ী, এই ঘটনায় অভিযুক্ত গ্রেফতার ব্যক্তি হিশাম সালেহ আবুঘরবেহ চ্যাটজিপিটিকে জিজ্ঞেস করেছিল, কোনো ব্যক্তিকে ময়লার ব্যাগে ভরে ফেলে দেওয়ার বিষয়ে।
প্রসিকিউটররা জানান, ‘যদি কোনো মানুষকে একটি কালো ময়লার ব্যাগে ভরে ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া হয়, তাহলে কী হয়?’ এমন প্রশ্নই অভিযুক্ত হিশাম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটজিপিটিকে করেছিলেন।
তবে নথিনুযায়ী, চ্যাটজিপিটি উত্তর দিয়েছিল, ‘বিষয়টি বিপজ্জনক মনে হচ্ছে।’ এর জবাবে হিশাম আরেকবার জানতে চান, ‘তারা কীভাবে জানতে পারবে?’ যদিও ওপেন এআই এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি।
আদালতে অভিযোগকারী পক্ষ বলেছে, ১৩ এপ্রিল রাতেই তিনি চ্যাটজিপিটির কাছে কাউকে ডাস্টবিনে ফেলার বিষয়ে জানতে চেয়েছিলেন। এই ঘটনাটি ঘটে তাদেরকে সর্বশেষ জীবিত দেখা যাওয়ার তিন দিন আগে।
নথিতে বলা হয়, জামিল ও বৃষ্টিকে সর্বশেষ যেদিন দেখা যায় (১৬ এপ্রিল) সেদিনই তাদেরকে ক্লিয়ারওটারে পৌঁছে দিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন হিশাম।
তদন্তকারীরা আরও জানিয়েছেন, ওই রাতেই হিশাম ময়লার ব্যাগসহ আরও কিছু জিনিস কিনেছিলেন। এছাড়াও তার ভবনে রক্তের চিহ্নও পাওয়া গেছে।
এদিকে প্রসিকিউটররা জানান, হিশামের এক রুমমেট তদন্তকারীদের বলেছেন, গত ১৭ এপ্রিল অভিযুক্তের ঘর থেকে কিছু কার্ডবোর্ডের বাক্স তাদের ভবন কমপ্লেক্সের একটি কমপ্যাক্টর ডাস্টবিনে নিয়ে যেতে দেখেন। এতে আরও বলা হয়, ওই ডাস্টবিনে তল্লাশি চালিয়ে জামিলের ব্যবহৃত কিছু জিনিস পাওয়া যায়। যার মধ্যে তার স্টুডেন্ট আইডি ও তার নামে থাকা ক্রেডিট কার্ডও ছিল।
এছাড়াও ডাস্টবিন থেকে পাওয়া একটি ধূসর টি-শার্টে ডিএনএ পরীক্ষায় যে জেনেটিক উপাদান পাওয়া গেছে, তা সম্ভবত জামিলের বলে উল্লেখ করা হয়েছে। একই ধরনের পরীক্ষায় একটি রান্নাঘরের ম্যাটে পাওয়া উপাদান বৃষ্টির সঙ্গে মিলে গেছে বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি আরও কিছু জিনিস ফেলে দিয়েছিলেন, যার মধ্যে বৃষ্টির গোলাপি রঙের মোবাইল ফোন কভারও ছিল।
নথিতে আরও বলা হয়েছে, শুক্রবার শেরিফের তদন্তকারীরা জামিলের দেহাবশেষ একটি ভারী ময়লার ব্যাগে খুঁজে পান, যেখান থেকে দুর্গন্ধ আসছিল। ময়নাতদন্তের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, তার মৃত্যুকে প্রাথমিকভাবে ‘একাধিক ধারালো অস্ত্রের আঘাতে’ সংঘটিত হত্যা হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
তখন আরও বলা হয়েছে, বৃষ্টি জীবিত আছেন, এমন কোনো প্রমাণ নেই, এবং তদন্তকারীরা মনে করছেন, হিশাম তার মরদেহও সরিয়ে ফেলেছেন।
রোববার হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের (পুলিশ) কার্যালয় জানায়, বৃষ্টিকে খোঁজার সময় মানবদেহের কিছু অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করা হয়েছে, তবে সেগুলোর পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। তবে তারা এখনও জানায়নি, কী কারণে এই হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটতে পারে।
অন্যদিকে, রোববার এক যৌথ বিবৃতিতে দুই পরিবারের সদস্যরা বলেছেন, তাদের ইচ্ছা হলো জামিল ও বৃষ্টির মরদেহ যেন ইসলামী রীতি অনুযায়ী দাফন করা হয়।
এক বিবৃতিতে বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, দুই শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যুতে তারা শোকাহত। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
প্রসঙ্গত, গতকাল ২৬ বছর বয়সী হিশাম সালেহ আবুঘরবেহ’র বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হত্যার (ফার্স্ট ডিগ্রি মার্ডার) দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি নিহত শিক্ষার্থী জামিলের রুমমেট ছিলেন। এছাড়াও তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক শিক্ষার্থী ছিলেন।
এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রে ১৭ এপ্রিল নিখোঁজ হন জামিল ও বৃষ্টি। দুজনই ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার পিএইচডি শিক্ষার্থী। ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন জামিল। অন্যদিকে বৃষ্টি পিএইচডি করছিলেন কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে। নিখোঁজ হওয়ার আগের দিন দুজনকে সর্বশেষ ক্যাম্পাসে দেখা গিয়েছিল।
সূত্র: এনবিসি নিউজ











