০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ এফে দুর্দান্ত এক জয় দিয়ে নিজেদের অভিযান শুরু করেছে ইউরোপের পরাশক্তি সুইডেন। মেক্সিকোর মনতেরেতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে আফ্রিকার ‘কার্থেজের ঈগল’খ্যাত তিউনিসিয়াকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে গ্রুপের শীর্ষস্থান দখল করেছে সুইডিশরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই তিউনিসিয়ার ওপর আধিপত্য বিস্তার করে সুইডেন। আক্রমণের পর আক্রমণে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে ব্যতিব্যস্ত করে তোলে তারা। এরই ধারাবাহিকতায় সপ্তম মিনিটে আসে প্রথম গোল। ডি-বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত এক দূরপাল্লার শটে সুইডেনকে এগিয়ে দেন ২২ বছর বয়সী মিডফিল্ডার ইয়াসিন আয়ারি।
প্রথম গোলের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই আরও বিপদে পড়ে তিউনিসিয়া। ৩০তম মিনিটে আলেক্সান্দার ইসাকের নিচু শট জড়িয়ে যায় জালে, আর তাতেই ব্যবধান দাঁড়ায় ২-০। মনে হচ্ছিল একতরফা ম্যাচের দিকেই এগোচ্ছে লড়াই।
তবে বিরতিতে যাওয়ার ঠিক আগে ম্যাচে নতুন প্রাণ ফেরায় তিউনিসিয়া। ৪৩তম মিনিটে হ্যানিবাল মেজব্রির নিখুঁত ক্রস থেকে অসাধারণ এক হেডে গোল করেন ওমর রেকিক। দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও ব্যবধান ২-১ করায় দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছিল আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।
কিন্তু বিরতির পর আর কোনো সুযোগ দেয়নি সুইডেন। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই আবারও আক্রমণের ঝড় তোলে তারা। আলেক্সান্দার ইসাকের দারুণ পাস থেকে গোল করে ব্যবধান ৩-১ করেন ভিক্টর গিওকারেস। এরপর বদলি হিসেবে মাঠে নেমে অল্প সময়ের মধ্যেই স্কোরশিটে নাম লেখান ম্যাথিয়াস সভানবার্গ, যা কার্যত তিউনিসিয়ার শেষ আশা নিভিয়ে দেয়।
শেষদিকে আবারও আলো ছড়ান ইয়াসিন আয়ারি। তিউনিসীয় বংশোদ্ভূত এই সুইডিশ মিডফিল্ডার দুর্দান্ত এক বজ্রগতির শটে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের পঞ্চম গোলটি করেন। তার জোড়া গোলের সঙ্গে এক গোল ও এক অ্যাসিস্টে উজ্জ্বল ছিলেন আলেক্সান্দার ইসাকও।
৫-১ গোলের এই বড় জয় শুধু সুইডেনকে তিন পয়েন্টই এনে দেয়নি, বিশ্বকাপের শুরুতেই শিরোপার লড়াইয়ে নিজেদের শক্ত অবস্থানের বার্তাও দিয়েছে। অন্যদিকে, এক ঝলক লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিলেও শেষ পর্যন্ত সুইডিশ আক্রমণের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি ‘কার্থেজের ঈগল’খ্যাত তিউনিসিয়া।










